নীলফামারী থেকে চুরি যাওয়া সোনা সৈয়দপুরের জুয়েলার্স থেকে উদ্ধার!

এম.এ মোমেন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট- নীলফামারীর সৈয়দপুরে রোববার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শহরের রুপসী জুয়োলার্সে অভিযান চালিয়ে চোরই সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় ২ ভরি চার আনা সোনা উদ্ধার করা হয়।

নীলফামারী থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার জানান, সদর উপজেলার প্রগতিপাড়ার (আলিয়া মাদ্রাসা রোড) বাসিন্দা নীলসাগর গ্রুপের পরিচালক (কৃষি) মো: আব্দুল আজিজ গত ১২ এপ্রিল নীলফামারী থানায় এজাহার দায়ের করেন। মামলাটি রেকর্ড হয় পরদিন ১৩ এপ্রিল। এজাহারে উল্লেখ করেন, বাসা থেকে ৮ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ২৭ ভরি সোনা ও নগদ ২ লাখ টাকা চুরি যায়। এনিয়ে তদন্ত করে গত ২০ এপ্রিল সোনা চুরির দায়ে সদর উপজেলার প্রগতি পাড়ার মৃত. হোদোর ছেলে লিটন (৩২) কে আটক করা হয়।

তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ এপ্রিল রোববার সৈয়দপুর শহরের (শেরে বাংলা) সিনেমা সড়কের রুপসী জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে সোয়া দুই ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে তাপস নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৈয়দপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দপুর সার্কেলের (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) অশোক কুমার পাল ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শাহজাহান পাশা।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক তাপস সরল বিশ্বাসে সোনা কিনেছেন বলে জানান। পরে তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। গভীর রাতে তাপসকে ছেড়ে দেয়ায় সৈয়দপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মালিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার বাদি মো: আব্দুল আজিজের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, গত ১২ এপ্রিল দিবাগত রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আমার দ্বিতল ভবনের ছাদের তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে বাসায় রক্ষিত স্টিলের আলমিরার তালা ভেঙ্গে ৮ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ২৭ ভরি সোনা ও নগদ ২ লাখ টাকা চুরি করে অজ্ঞাত চোরেরা। এনিয়ে থানায় অভিযোগ করলে প্রথমে প্রতিবেশী হোদোর ছেলে লিটনকে আটক করে পুলিশ। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দপুরের রুপসী জুয়েলার্স থেকে ২ ভরি ৪ আনা সোনা উদ্ধার করা হয় এবং আটক জুয়েলার্স মালিকের ছেলে তাপসকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়। আমার ধারণা তাপসকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আমার চুরি যাওয়া সম্পূর্ণ সোনা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা যাবে।

পুলিশ আটকের বিষয়ে কথা হলে তাপস জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারণে পুলিশ আমাকে দোকান থেকে আটক করে সৈয়দপুর থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আমাকে ছেড়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি ও সৈয়দপুর শহরের বৌরাণী জুযেলার্সের মালিক গোলাম রব্বানী জানান, আমরা স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা খবরটি শুনে থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা এর দায় নেবনা।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শাহজাহান জানান, মামলাটি নীলফামারী থানায় হয়েছে। আপনারা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই প্রদীপ কুমারের সাথে যোগযোগ করেন।

মামলার তদন্তকারী এস আই প্রদীপ কুমারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চোর লিটনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রুপসী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী রমেশ কর্মকারের ছেলে তাপস কর্মকারকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার কাছ থেকে ২ ভরি ৪ আনা সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু সোনা চুরির সাথে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

সৈয়দপুর সার্কেলের (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) অশোক কুমার পাল জানান, রুপসী জুয়েলার্সের মালিক তাপস সরল বিশ্বাসে সোনা কিনেছেন। বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায় তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইতোপূর্বেও সৈয়দপুরে চোরাই সোনাসহ একাধিক ব্যবসায়ী আটকের ঘটনা ঘটেছে। সেসময়ও প্রশাসন তৎপর না হওযায় এবং দৃষ্টান্তমূলক কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় মূল হোতারা ধরাছোয়ার বাইওে থাকার পাশাপাশি এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’