নীলফামারীতে ষ্টাফ প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষকের ছড়াছড়ি, লোপাট সরকারী কোষাগার!

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে নীলফামারী জেলার ৬৯টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রকৃত তথ্য গোপন করে স্টাফ প্যাটার্নের বাইরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে শতাধিক শিক্ষক। এসব শিক্ষক এমপিও নীতিমালা লংঘন করে প্রতি মাসে সরকারী কোষাগার থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা। মন্ত্রনালয়ের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রেখে অবাধে এসব অপকর্ম ও দুর্নীতি করে আসলেও একটি সক্রিয় শক্তিশালী প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীর ছয় উপজেলায় ৬৯টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে এমপিওভুক্ত। নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের জনবল কাঠামো এমপিও নীতিমালা মেনে এমপিও পেয়ে থাকে। ওই নীতিমালার আওতায় বালক বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষক ও দুইজন কর্মচারী এবং বালিকা বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী নিয়োগ পেয়ে এমপিওভুক্ত হয়। তবে হিন্দু শিক্ষার্থী থাকলে সেখানে অতিরিক্ত একজন শিক্ষক নিয়োগ পেতে পারে। নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক স্তরের পাঠদানের অনুমতি পেলেও যদি মাধ্যমিকের আর্থিক কোড অনুমোদিত না হয় তাহলে এমপিওভুক্ত হতে পারবে না। এরপরেও তথ্য গোপন করে ৩০টি মতো মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা বাগিয়ে নিয়েছেন এমপিও। অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একই পন্থায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা সিন্ডিকেটের দ্বারস্থ না হওয়ায় তাদের ভাগ্যে জোটেনি এমপিও। তারা নিয়মিত পাঠদান করালেও বেতন না পেয়ে যাপন করছেন মানবেতর জীবন।

নীলফামারী জেলায় নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের যে সব প্রতিষ্ঠান প্রকৃত তথ্য গোপন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এমপিও বাগিয়ে নিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জলঢাকার দক্ষিণ পাঠানপাড়া এইচ বি এম বালিকা বিদ্যালয়, ভবনচুড় মরা তিস্তা বিদ্যালয়, গাবরোল তহশিলদাপাড়া বিদ্যালয়, ঘুঘুমারী বিদ্যালয়, বালাগ্রাম বিদ্যালয়, বেরুবন্দ হাট বিদ্যালয়, রশিদপুর বালিকা বিদ্যালয়, বালাপাড়া গাবরোল বালিকা বিদ্যালয়, মালেকা বেগম বালিকা বিদ্যালয়, পশ্চিম কাঠালী বালিকা বিদ্যালয়।

ডিমলা উপজেলার দক্ষিন কাকড়া এস সৈয়দ বিদ্যালয়, পুর্ব সাতনাই এ ডি এ বিদ্যালয় ও দোহলপাড়া বিদ্যালয়।

ডোমার উপজেলার জোড়বাড়ি বালিকা বিদ্যালয়, হংসরাজ বালিকা বিদ্যালয়, বোড়াগাড়ি বালিকা বিদ্যালয় ও বড় রাউতা বিদ্যালয়। কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি বিদ্যালয়, কিসামত বদি বিদ্যালয়, ভেড়ভেড়ী মাঝাপাড়া বিদ্যালয়, গাড়াগ্রাম আদর্শ বিদ্যালয়, বেগম খালেদা জিয়া মডেল বালিকা বিদ্যালয়, সীট রাজিব মডেল বিদ্যালয় ও গনেশ আদর্শ বিদ্যালয়।

নীলফামারী সদর উপজেলার ছত্রশাল বিদ্যালয়, শালহাটি বিদ্যালয়, যাদুরহাট বালিকা বিদ্যালয়, গোড়গ্রাম নিজপাড়া বালিকা বিদ্যালয়, ফুলতলা বিদ্যালয় ও উত্তর পাটকামুরি বিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী ছয়জন শিক্ষক থাকার বিধান থাকলেও আট থেকে ১৪জন পর্যন্ত প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক অবৈধভাবে প্রতি মাসে সরকারী কোষাগার থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বেতন-ভাতা। যা আত্মসাতের শামিল।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, জনবল কাঠামো এমপিও নীতিমালা অনুয়ায়ী অতিরিক্ত শ্রেণী শাখা বা জনবল কাঠামোর বাইরে অতিরিক্ত শিক্ষককে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করার কোন সুযোগ নেই। অনলাইনের মাধ্যমে এমপিওভুক্তি চালু হওয়ার পর থেকে অবৈধ এমপিওভুক্তি বন্ধ হয়ে গেছে।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’