ডোমারে পুকুরে চাষ হচ্ছে মহামূল্যবান মুক্তা!

জুলফিকার আলী ভূট্টো, ডোমার অফিস- নীলফামারীর ডোমারে মুক্তা চাষ করে সফল হয়েছেন উদ্যোক্তা সেলিম আল মামুন ও জুলফিকার রহমান বাবলা নামের দুই যুবক। তবে মুক্তা বিক্রির বাজার না থাকায় চরম দুঃচিন্তায় পড়েছেন তারা।

ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়ী চাকধাপাড়া গ্রামের অমিজ উদ্দিনের ছেলে আঠিয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম আল মামুন ও একই গ্রামের অপর যুবক জুলফিকার রহমান বাবলা বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট ময়মনসিংহ থেকে ৪ দফায় প্রশিক্ষন নিয়ে বাড়ীর পাশে দুটি পুকুরে ঝিনুকে মুক্তা চাষ শুরু করেন।

প্রথমে তারা এলাকার জেলেদের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করেন। ঝিনুক গুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে পুকুরে ছেড়ে দেয়া হয়। সেখানেই প্রাকৃতিক নিয়মেই তৈরী হয় মুক্তা।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সেলিম আল মামুন জানান, এ কাজে প্রচুর শ্রম দিতে হয়। ঝিনুক গুলোকে প্রক্রিয়াজাত করনে পরিবারের সবাই কাজ করে থাকি। আমার স্ত্রী রেজওয়ানা আক্তার বন্যা, মেয়ে শামিমা শাম্মি বৈশাখী ও সুমাইয়া আফরোজ, ছেলে রিজওয়ান আল মাহফুজ, আমার বাবা অমিজ উদ্দিন এবং আমার ভাইয়ের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার ফেন্সি প্রক্রিয়াজার করনে সহযোগীতা করে থাকেন। আমি মোট ২৫ হাজার ঝিনুক সংগ্রহ করি। এর মধ্যে ২হাজার ৭শত ঝিনুক অপারেশন করা হয়। ঝিনুকগুলোকে প্রথমে পরিস্কার করে এক ঘন্টা পর অপারেশন করে ঝিনুকের ভেতরে ইমেজ ঢুকিয়ে সেলাই করে জালের ঝুড়ির মধ্যে রাখা হয়।

লম্বা ঝুড়িতে ১২টি এবং গোল ঝুড়িতে ৪টি করে ঝিনুক পুকুরে রাখা হয়। ২১দিন পর ঝিনুকগুলো তুলে পুকুরে উন্মুক্ত করা হয়। ৮থেকে ৯মাস পর সেখান থেকে মুক্তা পাওয়া যায়। ঝিনুক থেকে তিন প্রকার মুক্তা চাষ করা যায়। ইমেজ মুক্তা তৈরী হতে সময় লাগে ৮থেকে ৯মাস, রাইজ মুক্তা তৈরী হতে সময় লাগে ২৪থেকে ৩৬মাস এবং নিউক্লি মুক্তা তৈরী হতে সময় লাগে ১৮থেকে ২৪মাস।

মুক্তা বিক্রির আন্তর্জাতিক বাজার থাকলেও বর্তমানে আমাদের দেশে এর কোন বাজার নেই। ফলে মুক্তা উৎপাদন হলেও বিক্রি করতে দুঃচিন্তায় পড়েছেন তারা। এ যাবত ওই প্রকল্পে তিনি দেড় থেকে দু লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। উৎপাদিত এ মুক্তাগুলো তিনি কোথায় বিক্রি করবেন এর সঠিক কোন মাধ্যম না থাকায় ঝামেলায় পড়েছেন।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট থেকে জানানো হয়, মুক্তাগুলোর গুনগত মান ভালো হলে একটি মুক্তার মূল্য ৫হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট আমার উৎপাদিত মুক্তাগুলো বিক্রি করতে সহযোগীতা করবেন। ওই এলাকার অপর যুবক জুলফিকার রহমান বাবলা তিনিও ৫০হাজার ঝিনুক সংগ্রহ
করে ৭শত ঝিনুক অপারেশন করেছেন।

এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছাঃ শারমিন আকতার জানান, ঝিনুকে মুক্তাচাষ প্রকল্পটি পরিক্ষামূলক ভাবে চলছে। এখনো মাঠ পর্যায়ে এ প্রকল্প চালু হয়নী।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট ময়মনসিংহ এর প্রকল্প পরিচালক মহসেনা বেগম তনু জানান, গোলাকার মুক্তার বাজার বাংলাদেশে রয়েছে। বিভিন্ন জুয়েলারীতে অলংকার তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। ইমেজ মুক্তার বাজার পার্শবর্তী দেশে রয়েছে। আমাদের দেশে একেবারে নতুন। দেশে এখনো বাজার তৈরী হয়নী। আমাদের দেশে বাজার তৈরী করতে হবে। আমরা তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি, ইমেজের ডিজাইন যেন সুন্দর হয়। এ গুলোকে বর্তমানে বিভিন্ন জুয়েলারী দোকানে বিক্রি করতে হবে।

বর্তমানে অলংকার তৈরীতে মুক্তার ব্যবহার বাড়ছে। এই প্রকল্পটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। আমরা এর বাজার তৈরীতে দেশে এবং বিদেশে অনেকের সাথে কথা বলেছি। তারা সরজমিনে গিয়ে উৎপাদিত মুক্তা দেখে উদ্যোক্তার সাথে কথা বলে মুক্তা কিনতে প্রয়োজনিও ব্যবস্থা নেবেন।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’