পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের ‘মাথা লাগবে’ গুজব!

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় সমস্ত বাধা অতিক্রম করে নিজ দেশের অর্থায়নে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি এই কাজকে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে কতিপয় চক্রান্তকারী কয়েকটি মহল।

গত কয়েকদিন ধরে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও জেলার আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ‘কল্লাকাটা’ কিংবা ‘ছেলেধরা’ সংশ্লিষ্ট কিছু খবর ছড়াচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার একটিরও কোনো প্রমাণ পায়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তাই আপাতত বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব বলেই দাবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। যদিও মাঠ পর্যায়ে এ নিয়ে কাজ করছে পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র জানান, এসব খবর ছড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যস্ত রেখে অন্য কোনো অপরাধ সংগঠিত করার পাঁয়তারা চলছে কি না তা যেমন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তেমনি ‘কল্লাকাটা অর্থাৎ, গলা কেটে নিয়ে যাওয়া’ কিংবা ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক ছড়িয়ে অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে বিদ্যালয় কিংবা কোচিংয়ে পাঠিয়ে চুরি বা ডাকাতি সংগঠিত হওয়ার কোনো বিষয় রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যদিও পুলিশের একটি সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত কল্লাকাটা কিংবা ছেলেধরার নামে যেসব গুজবের কথা ছড়াচ্ছে প্রতিটি জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যাওয়ার চেষ্টা করছে। বেশ কিছু স্থান থেকে এমন ঘটনায় জনতার হাতে ধরা পড়া নারী-পুরুষকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। তবে শিশু চুরি বা এ ধরনের অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে না।

সম্প্রতি বরিশাল নগরের গির্জা মহল্লা এলাকা থেকে এক শিশুর কান্নাকাটি দেখে লোকজনের সন্দেহ হলে এক নারীকে আটক করে জনতা। সঠিক তথ্য যাচাই করে তাকে ছেলেধরা বলে আখ্যা দিয়ে নাজেহাল করে পুলিশে দেওয়ার পর জানা যায় ওই নারী শিশুটির স্বজন হন।

গত ৬ জুলাই শনিবার বরগুনার তালতলী উপজেলা থেকে গভীর রাতে পচাকোড়ালিয়া এলাকা থেকে ২ শিশু অপহরণ ঘটনা ঘটে। অপহরণকারী ২ ছাত্র হলেন- মোহাম্মদ নাজমুল (১২) ও মেহেদী (১৪)। নাজমুল আমতলী উপজেলা চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। ও মেহেদী তালতলী উপজেলার বগি হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র।

অনেকে বলছেন, এসব লোকদের গায়ে এক ধরনের সিল মারা রয়েছে, যারা শিশুদের ধরে নিয়ে মাথা কাটে। যা নিয়ে বিদ্যালয়, হাট-বাজার, দোকানপাট, বাসাবাড়ি সবজায়গাতেই চলেছে আলোচনা।

এরকম কিছু খবর নিয়ে গত চার পাঁচ দিনে নগরের রুপাতলী, কাউনিয়া, বরগুনা জেলার বিভিন্ন, এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউই চোখে কিছু দেখেননি, সবাই শুনেছেন। আবার নামে-বেনামে অনেক আইডি থেকে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের গুজবের খবরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ দিকে এই শোনা কথা নিয়েই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, তেমনি উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরা।

তালতলী থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, সম্প্রতি তালতলী দুই শিশু অপহরণের সাথে গলা কাটার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন তাদের পূর্বপরিচিত থাকার কারণেই তাদের বাড়িতে আসা যাওয়ার এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন ইতোমধ্যে একটি ছেলেও ফিরে এসেছেন। তিন অভিভাবক উদ্দেশ্য করে করে বলেন এতে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতার সাথে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া মুঠোফোনে বলেন, বরিশালে কিছু ছিঁচকে চোর রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান। এমনটা হতে পারে আমাদের দৃষ্টি অন্যদিকে ব্যস্ত রেখে অন্যদিকে কোনো অপরাধ সংগঠিত করা কিংবা দিনে গার্ডিয়ানরা বাসা খালি রেখে ভয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে স্কুলে যাবে আর এ সুযোগে বাসায় চুরি করা।

‘আমি মনে করি, ছিঁচকে চোর বা অপরাধীদের পুলিশকে ব্যস্ত রাখার কৌশল হতে পারে আবার গুজবে পদ্মা সেতুর বিষয়ে কিছু থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে হেয় করার বিষয়ও থাকতে পারে। দুঃখজনক হলেও বলতে হয়, এখন যেখানে মানুষ মঙ্গলগ্রহে যায় এর মধ্যে এ ধরনের কুসংস্কারে বিশ্বাস করা মানে মানসিক স্তরে উন্নয়ন হয়নি এটার প্রতিফলন।

আমরা সবাইকে সতর্ক হতে বলব কিন্তু আতঙ্কিত নয়। আমি সবার কাছে অনুরোধ করব শুধু ছেলে ধরার বিষয় নয়, কারও অস্বাভাবিক কোনো আচরণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করুন। কারণ আপনাদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করছি।

আর এই গুজবকে প্রতিহত করার জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম (৯ জুলাই) বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। তিনি বলেন বর্ণিত বিষয়টি গুজব হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশবাসীকে অবহিত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’