নীলফামারীতে কুকুরের দাপটে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- কুকুর নিধন হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ থাকায় নীলফামারীর পাড়া-মহল্লায় বেড়েই চলেছে কুকুর। কুকুরের লালা থেকে জলাতঙ্ক রোগ যাতে না ছড়ায়, সে লক্ষ্যে কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে কর্মসূচিও এখন বন্ধ রয়েছে। এদিকে প্রতিদিনই কুকুরের কামড়ে আহত হচ্ছেন অনেকে। তাদের ভ্যাকসিন দিতে হিমশিম খাচ্ছে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কুকুরের সংখ্যা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। অলিগলিতে কুকুরের অত্যাচারে পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন না। শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারেছে না।সদর আধুনিক হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ভ্যাকসিনেটর নাজমা পারভীন জানান, বিড়াল ও কুকুরের কামড়ে আহত ৩০০-৩৫০ রোগীকে প্রতিদিন র‌্যাবিস ভ্যাকসিন (টিকা) ও র‌্যাবিস আইজি (টিকা) দিতে হয়।

হাসপাতালের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত চার হাজার ৮৯৭টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ও র‌্যাবিস আইজি টিকা প্রদান করা হয়। প্রতিদিন বিড়াল ও কুকুরের কামড় খাওয়া রোগীর এত ভিড় বাড়ছে যে, তা সামাল দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। গতকাল সকাল থেকে ২১০ জন টিকা নিয়েছেন।

সদর আধুনিক হাসপাতালে টিকা নিতে আসা জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও জলঢাকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নীলিমা আকতার জানায়, বিদ্যালয় যাওয়ার পথে হঠাৎ একটি কুকুর এসে কামড় দেয়। ওই ক্ষত শুকাতে গিয়ে সে ১৫ দিন স্কুলে যেতে পারেনি। কুকুরের উপদ্রব এতই বেড়েছে যে, তার সহপাঠীরা ভয়ে কয়েক দিন স্কুলে আসেনি।

কুকুরের কামড় খেয়ে হাসপাতালে টিকা নিতে আসা সদরের দারোয়ানী সুতাকল এলাকার গোলাম রব্বানী জানান, বিকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দারোয়ানী বাজারে আসার পথে দল থেকে হঠাৎ একটি কুকুর তেড়ে এসে পায়ে কামড় দেয়। এরকম ঘটনা এলাকায় প্রতিদিনই ঘটছে। এর কি কোনো প্রতিকার নেই। কুকুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ।

সৈয়দপুর পৌরসভার বাবুপাড়া মহল্লার মাসুম মিয়ার ১০ বছর বয়সী মেয়ে মিম আকতার জানায়, বাড়ির পাশে দুই বান্ধবী মিলে খেলতে গেলে একটি কুকুর দৌড়ে এসে পায়ে কামড় দেয়। মাসুম মিয়া জানান, সরকার থেকে কুকুর নিধন বন্ধ থাকায় কুকুরের কামড়ে অতিষ্ঠ পৌরবাসী।
জলঢাকার শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে র‌্যাবিস আইজি টিকা বরাদ্দ না থাকায় বাজার থেকে ১২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। টিকা কিনে প্রয়োগ করার সাধ্য তাদের না থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন। বাধ্য হয়ে টিকা না দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। তার মতে, কুকুর দমনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত দরকার।

এ ব্যাপারে নীলফামারী পৌরসভার সচিব মশিউর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কুকুর নিধনে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। এর আগে সরকারিভাবে রাজধানীর মহাখালী থেকে একটি টিম এসে কুকুর নিধন করত। তারা কুকুরপ্রতি ৪০ টাকা করে নিত। এরপর পরিবেশবাদী একটি সংগঠন উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত তা আমলে নিয়ে কুকুর নিধন বন্ধ করে দেন। পরবর্তীকালে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এখন সেটিও বন্ধ করা হয়েছে। কুকুর কাউকে কামড় দিলে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্রতিষেধক টিকা দিয়ে নিতে হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোনাক্কা আলী জানান, কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তারা শুধু কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। তবে কেন কুকুরের জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা বন্ধ আছে, এ বিষয় বলতে পারব না।
সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বর্মণ জানান, আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ র‌্যাবিস ভ্যাকসিন আছে। ভ্যাকসিন সংকটের কোনো কারণ নেই। তবে র‌্যাবিস আইজি বরাদ্দ না থাকায় এটি বাজার থেকে সংগ্রহ করতে হয়। তুলনামূলকভাবে র‌্যাবিস আইজি ভ্যাকসিনের ব্যবহার কম হওয়ায় সরকারিভাবে এটির বরাদ্দ নেই। এছাড়া কুকুরের কামড়ে অতিরিক্ত ক্ষতের সৃষ্টি হলে বা ইনফেকশন হলে আইজি টিকা দিয়ে নিতে হবে। টিকাটি ব্যয়বহুল ও সরবরাহ কম থাকায় অনেকেই তা কিনতে পারেন না। তবে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা খুবই কম।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’