সৈয়দপুর নিচু কলোনির জমির প্রকৃত মালিক কে

এম,জেড,হাসান-রেলওয়ের ভূমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করতে শহরের বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে লাগনো হয়েছে লাল নোটিশ। সেই সাথে উচ্ছেদকৃত এলাকার নাম উল্লেখ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাইকিংও করেছে।ওইসব এলাকার মানুষ জন উচ্ছেদ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।আর ওই উচ্ছেদ ঠেকাতে ইতিমধ্যে অধিকার ও বাস্তহারা নামে দুটি কমিটি গঠনও হয়েছে। এই দিকে সৈয়দপুর নীচু কলোনিতে উচ্ছেদ ঠেকাতে রেলওয়ের জমিতে ঝুলানো হয়েছে ব্যক্তি মালিকানার সাইনবোর্ড।ওই সাইনবোর্ডে মো.আসলাম উদ্দিন সরকারকে নীচু কলোনির জমির মালিক ও নিচু কলোনি জামে মসজিদের জমি দাতা হিসাবে আলাদা আলাদা ভাবে দুই টি সাইনবোর্ড ঝুলানো দেখাগেছে।এই সাইনবোর্ড নিয়ে নিচু কলোনির মানুষের মধ্যে কৌতুহল ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১২সেপ্টেম্বর) সকালে সরজমিনে ঘুরে ওই সাইনবোর্ড দুইটি দেখাযায়।নিচু কলোনি বাজারে বিদ্যুৎ পোলে ঝুলানো হয়েছে একটি সাইনবোর্ড।তাহাতে লেজখা আছে, জমির মালিক মোঃ আসলাম উদ্দিন সরকার, পিতা মৃত:এছার উদ্দিন সরকার,৯১০ দাগে জমির পরিমাণ-৮৪ শতক এবং ৯১৩ দাগে জমির পরিমাণ-১৭১শতক উল্লেখ করা হয়েছে।

অপর সাইনবোর্ডটি নিচু কলোনি জামে মসজিদের সামনের গাছে ঝুলানো হয়েছে।এই সাইনবোর্ডে নিচু কলোনির জামে মসজিদের জমি দাতা মোঃ আসলাম উদ্দিন সরকার, পিতা মৃত:এছার উদ্দিন সরকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।নীচু কলোনি জামে মসজিদে ৯১০ দাগে ৯৯ শতকের মধ্যে ১৫ শতক মসজিদের নামে এবং অবশিষ্ট ৮8 শতক ও ৯১৩ দাগে জমির পরিমাণ-১৭১ শতক জমি দাতার নামে রয়েছে।উভয় জমির দাগ-৯১০ ও ৯১৩,খতিয়ান-২০৯,জে এল-৩৮ বলে উল্লেখ করা হয়।দুই দাগে মোট জমির পরিমাণ ২ একর ৫৫ শতক।
অনুসন্ধানে জানাযায়,৯১৩ দাগে জমির পরিমাণ ৫ একর ৩৯শতক।তিনটি খতিয়ানে বিভক্ত।তিনটি খতিয়ান হলো,১৪,১৫ ও১৯
১৪ নং খতিয়ানে জমির পরিমাণ-২একর ২২ শতক।যার মালিক কাশি রাম আগারওয়াল। কাশি রাম আগারওয়ালার ২ একর ২২ শতক জমি অনেক পূর্বে সৈয়দপুর বিমানবন্দর অধিগ্রহণ করেছে।
১৫নং খতিয়ানভূক্ত জমির পরিমাণ ১একর ৭১শতাংশ।মালিক জমির খা। এই জমির খা’র নিকট থেকে মৃত এছার উদ্দিন সরকার আসলামের পিতা পত্তন বা লীজ গ্রহণ করেছে জানাযায়।
অপর দিকে ১৯ নং খতিয়ানভূক্ত জমির পরিমাণ ১ একর ৪৬ শতাংশ।যার মালিক লতিফুন নেছা চৌধুরানী।লতিফুন নেছা চৌধুরানীর ওয়ারিশগনের সাথে রেলওয়ের দাবিকৃত ৩ একর ১৩ শতাংশের উপর বর্তমান মামলা চলমান রয়েছে। যার মামলা নং ৪৯/৯১
রেলওয়ের পক্ষে মামলার স্বাক্ষীগ্রহন তারিখ চলছে বলে জানাগেছে।নিচু কলোনিতে রেলওয়ের জমির নতুন দাগ ১৭২৭,আনুমানিক জমির পরিমাণ ৩ একর ১৩ শতক।রেলের ৩ একর ১৩শতাংশ জমির মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে জমির রেকর্ড হয়েছে জানাযায়।তবে রেলওয়ের সাথে শুধু লতিফুন নেছা চৌধুরানীর ওয়ারিশগনের মামলা চলমান রয়েছে। অন্যান্যরা রেলওয়ের সাথে কোনো মামলা করেনি বলে জানাযায়।
এদিকে নিচু কলোনিবাসি মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,যদি নিচু কলোনির জমির মালিকানা ব্যক্তি মালিকদের হয়।তা হলে ব্যক্তি মালিকদের জমি অধিগ্রহণ না করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিভাবে এই জমিতে রেলওয়ের কোয়ার্টার নির্মাণ করলো ? এনিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই বলে জানান তারা।
রেলওয়ের জমিতে ব্যক্তি মালিকানার নামে সাইনবোর্ড ঝুলানো ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’