চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল সংযোগে বাংলাদেশ-ভারত সোনালী অধ্যায়ের সূচনা হবে : রেলমন্ত্রী

জুলফিকার আলী ভূট্টো, সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল সংযোগ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক সোনালী অধ্যায়ে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন।

শনিবার দুপুরে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে ভারতের সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে ব্রডগেজ রেলপথ নির্মান প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মান কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই রেলের উন্নতি হয়। আর অন্য দল ক্ষমতায় থাকলে সব লুটেপুটে খায়।

এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিশেষ অতিথি রীভা গাঙ্গুলী দাস বলেছেন, বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ভাবে উত্তরোত্তর উন্নতিতে প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে ভারত গর্ব করে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান নুর এমপি, নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীম, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হারুন-অর-রশীদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। মোট ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যায়ে বাংলাদেশের চিলাহাটির থেকে ভারতের হলদীবাড়ি পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার এই রেল লাইন স্থাপনের কাজ করছে ম্যাক্স ইনফ্রাসট্রাকচার লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

ফলে ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়া জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি থেকে আবারো সচল হচ্ছে ভারতে হলদিবাড়ির সঙ্গে রেল যোগাযোগ। ভারতের সঙ্গে সরাসরি রেলযোগাযোগ পুনরায় স্থাপন হতে যাচ্ছে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর। বাংলাদেশ-ভারত রেলপথের এই রুটটি ৫৪ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর আবারো রেল সুবিধা পাবেন এই অঞ্চলের মানুষ।উভয় দেশের ১১ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রেললাইনের মধ্যে বাংলাদেশ অংশের প্রায় সাড়ে– সাত কিলোমিটার রেললাইন নির্মানের কাজ করছে ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। রেলপথটি নির্মাণের কাজ ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানা গেছে। ভারতের সঙ্গে রেলসংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে রেলপথ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর একনেকের সভায়। এই বরাদ্দকৃত অর্থে সাড়ে ৭ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন,ব্রীজ নির্মান এবং চিলাহাটি রেলষ্টেশনকে আধুনিকায়নে রুপ দেওয়া হবে।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট ভারত ভাগের পরও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি মধ্যে এই ইন্টারচেঞ্জ চালু ছিল। সে সময় চিলাহাটি ও হলদিবাড়ি স্টেশনের উজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে এখনও গর্ববোধ করেন এলাকার বাসিন্দারা। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত হলদিবাড়ির সঙ্গে রেল যোগাযোগ বহাল ছিল। ১৯৪৭ সালের ভারতের স্বাধীনতার আগে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি দিয়ে সরাসরি কলকাতার যোগাযোগ ছিল। দার্জিলিং মেল ট্রেনটি তখন এই পথে দর্শনা হয়ে যাতায়াত করতো।সেই সময় চিলাহাটি হলদিবাড়ির গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল।

১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধের পর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।এরপর এটি আর চালু হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে রেল রুটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় রেলপথটি পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ৮ মে থেকে সপ্তাহ ব্যাপী বাংলাদেশের অংশের এবং ২০১৭ সালের গোড়ার দিকে ভারতের অংশের জরিপ কাজ শেষ করা হয়।

সুত্র মতে, রেলপথ স্থাপন শেষ হলে প্রথম ধাপে চলাচল করবে পন্যবাহী রেল। দ্বিতীয় ধাপে যাত্রীবাহী ট্রেন। যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ঢাকা হতে নিউ জলপাইগুড়ি(শিলিগুড়ি) ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বাংলাদেশের দর্শনা সীমান্ত হয়ে কলকাতা শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে বলে রেলওয়ের সূত্রে জানা গেছে।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’