নীলফামারীর মহাসড়ক, আসছে ৪২১ কোটি টাকার প্রকল্প!

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- নীলফামারী জেলার ৩ টি সড়কের মানবৃদ্ধি ও প্রশস্ত করা হবে। ‘ডোমার-চিলাহাটি-ভাউলাগঞ্জ, ডোমার-জলঢাকা এবং জলঢাকা-ভাদুরদরগাহ-ডিমলা’ শীর্ষক এ প্রকল্পটি আজ মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৪৯ কিলোমিটার জেলা মহাসড়কের মানবৃদ্ধি ও প্রশস্ত করা হবে। প্রকল্পটির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২১ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুলাই থেকে জুন ২০২১ সালে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। একনেকের কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী জেলার জলঢাকা ও ডোমার উপজেলার সাথে সরাসরি এবং সংক্ষিপ্ত রুটে চিলাহাটি স্থলবন্দর হয়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সংঙ্গে যুক্ত হয়েছে। জলঢাকা-ভাদুরদরগা-ডিমলা এবং ডোমার-জলঢাকা সড়কের সাথে সরাসরি সংযুক্ত বোদা-দেবীধস-ডোমার মহাসড়কটি এরিমধ্যে বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থায়নে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন করা হয়েছে। কিন্তু বর্ণিত সড়ক দুটির প্রস্থ ৫.৫ মিটার এবং যথাযথ মানের না হওয়ায় পরিপূর্ণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে ডোমার-চিলাহাটি-ভাউলাঞ্জ মহাসড়কটির প্রশস্ততা ৩.৭০ মিটার এবং সড়কে ৪টি জরাজীর্ণ বেইলি সেতু থাকায় সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযোগী হয়ে গেছে।

এছাড়া সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়কে অবস্থিত উত্তরা ইপিজেড, সিরামিক কারখানাসহ অনেক শিল্প কারখানার যানবাহনসহ এ সড়কে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সড়কের প্রশস্ততা যানবাহন চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

এ প্রকল্পটির ওপর গত ১৩ জুন প্রাক মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিইসি সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ডিপিপি পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব করে। পুনর্গঠিত ডিপিপিতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২১ কোটি টাকা এবং জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২১ সালে বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

একনেকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে বরাদ্দহীনভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নেই। তবে পিইসি সভায় উপস্থাপনের সময় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দহীনভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় আন্তর্ভুক্ত ছিলো। প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত সড়কটি টোলমুক্ত। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সরাসরি কোন আয় না থাকাতে আর্থিক আয়-ব্যয় বিশ্লেষণের ফলাফল বিবেচনা না করে শুধুমাত্র আর্থনৈতিক আয়-ব্যয় বিশ্লেষণের ফলাফল বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থনৈতিক আয়-ব্যয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী প্রকল্পটি লাভজনক।

প্রকল্পটি বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারীর সাথে ডোমার ও জলঢাকা উপজেলাসহ চিলহাটি স্থলবন্দর উন্নত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন এবং এই এলাকা জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে। এজন্য প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের উপস্থাপন করা হবে।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’