জলঢাকার মুক্তিযোদ্ধা নরেশের নাম ভারতীয় তালিকায় থাকলেও পায়নি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

ফরহাদ ইসলাম, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি- নীলফামারীর জলঢাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নরেশ চন্দ্র বর্মন জীবন যুদ্বে পরাজিত এক সৈনিক। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্বে রনাঙ্গানে সম্মুখ যুদ্বে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীনতার ভাগিদার এই মুক্তিযোদ্ধা।

উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের চিড়াভিজা গোলনা এলাকার মৃত্য পুর্ন চন্দ্র বর্মনের ছেলে নরেশ চন্দ্র আজ মুক্তযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতীর আশায় ঘুরছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্বারে-দ্বারে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও হতে পারেনি রাষ্ট্রীয় তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা।

ভারতীয় তালিকার কল্যান ট্রাষ্টের ৪১৪২০ নাম্বারে নথিভুক্ত হয়ে থাকলেও দেশের তালিকায় নাম নেই তার। এখন এই মুক্তিযোদ্ধা ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই মুক্তিযোদ্ধার সংসার চলে মানুষের দ্বারে-দ্বারে হাত পেতে। নেই চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য। মাথায় টিউমার নিয়ে এখনও বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে হাত পেতে সাহায্য নিতে হয় তাকে।

সংসার জীবনে স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে। ২ মেয়ের অতিকষ্টে বিয়ে দিতে পেরেছেন। বর্তমানে স্ত্রী সন্তানসহ ৩ জনের সংসারে যোগান দিতেই হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি কথা হয় এই বীর মুক্তিযোদ্বা নরেশ চন্দ্রের সাথে ১৯৭১ সালে দেশের প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্বে অংশগ্রহন করেছিলাম। ৬ নং সেক্টরে তৎকালিন কমান্ডার আব্দুল লতিফ এর নেতৃত্বে সম্মুখ যুদ্বে অংশ নেই। স্বাধীনতার পর পারিবারিক একটি মামলায় সে সময় আমি ভারতে আতœগোপন করি। ১৯৯৪ থেকে ৯৫ সালে আবার দেশে ফিরে আসি।

তিনি আরও বলেন,এই দীর্ঘ বছরের মামলার ভয়ে আমার ছোট ভাই যগেশ বর্মন কালু আত্মহত্যা করে। সে সময় সবাই মুক্তিযোদ্বা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও হতে পারিনি আমি। ২০১৭ সাল সরকার ঘোষিত মুক্তিযোদ্বা যাচাই-বাচাই হলে আমি সেখানে উত্তির্ণ হয়। কিন্তু তালিকায় আমার নাম আসেনি। ৭৪ বয়সি মুক্তিযোদ্বা নরেশ চন্দ্র অনেকটা আক্ষেপ করে বলেন, অনেকে মুক্তিযুদ্বে অংশ না নিয়েও আজ তারা দেখি মুক্তিযোদ্বা সেজেসে। পাচ্ছে রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধা।

অথচ আমার ভারতীয় তালিকায় নাম থাকার পরেও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আমি। এখন মানুষের দ্বারে-দ্বারে হাত পেতে চালাতে হয় আমার সংসার। জীবনের শেষ ইচ্ছা মুক্তিাযোদ্বা স্বীকৃতিসহ আমার শেষ কৃত্তি অনুষ্ঠানে যেন দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা।

এ বিষয়ে কথা হয় সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্বা কমান্ডার হামিদুর রহমান বলেন, নরেশ চন্দ্র প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তার নাম ভারতীয় তালিকাতেও আছে। ২০১৭ সালে যাচাই-বাছাইয়ে তার নামটি চুড়ান্ত তালিকায় পাঠানো হয়েছিল।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’