নীলফামারীর জেএসসি পরীক্ষার্থী ময়নাকে কে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল ইটভাটায়? (ভিডিও)

নীলফামারীনিউজ, এডিটোরিয়াল রিপোর্ট- ময়না দেবনাথ (১২)। নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম যুগিপাড়ার আবুল দেবনাথের মেয়ে। সে নীলফামারী জেলা সদরের গোড়গ্রাম স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী।

শনিবার (২ নভেম্বর) হতে পরীক্ষা শুরু হওয়া জেএসসি পরীক্ষায় পরিক্ষার্থী ছিল সে। কিন্তু সেই পরীক্ষা দেয়া হলো না তার। আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ হয় সে।

ঠিক পরদিন শনিবার সকালে তার মরদেহ পাওয়া গেল বাড়ীর পাশেই ইটভাটার একটি খালে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠায়। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ময়নাকে দাফন করা হয়।এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় একটি ইউডি (আনন্যাচারাল ডেথ) মামলা হয়েছে।

কিন্তু ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হতে চললেও এখন এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তারা বলছেন, বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তদন্ত চালাচ্ছেন তারা, সেই সাথে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন।

এদিকে ময়নার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ময়না দেবনাথকে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বাড়ীতে পাওয়া যাচ্ছিল না। ময়নার বাবা আবুল দেবনাথ জানান, ময়নাকে তার মা শুক্রবার সন্ধায় হাত মুখ ধুয়ে বই নিয়ে বসতে বলে। এরপর ময়না হাতমুখ ধোঁয়ার জন্য টিউবওয়েলে যায়। কিন্তু এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি বলেন, ওই সময়ে পরিচিত কেউ ময়নাকে ডেকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায় এবং বাড়ির সাথেই লাগোয়া হাজী অকছেদ আলী শেখের ইটভাটার ওই পুকুরের পাশে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। চিনে ফেলায় মেরে ফেলা হয় ময়নাকে এবং লাশ ইটভাটার পুকুরে ফেলে দেয়। বলেই কাঁদতে শুরু করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, নিখোঁজ হওয়ার রাতে আমার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ইটভাটার দারোয়ান রণজিৎ রাত ১১টা পর্যন্ত ইটভাটায় খোজাখুজি করে। কিন্তু আমার মেয়েকে পাওয়া যায়নি। রাত ১২টার দিকে আবারও পুকুর পাড়সহ আশেপাশে খোঁজা হয়, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। শনিবার সকাল ৬টার দিকেও আমরা ভাটাসহ পুকুর পারে খুজি, কিন্তু তবুও ময়নাকে পাইনি।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে ভাটার শ্রমিকেরা মরদেহ পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে আমাকে খবর দিলে পুকুরে আমার মেয়ের লাশ দেখতে পাই। মেয়ের হত্যাকারীদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ময়নার লাশ পুকুর থেকে যে নারী তুলেছেন তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ময়নার ঠোঁটে অসংখ্য কামড় ছিল। কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিল মেয়েটির ঠোঁট। এরপর পায়জামার ফিতা শক্ত করে বেঁধে দেয়া ছিল, যেভাবে কোন মেয়ে পায়জামার ফিতা লাগায় না। কপালে ছিল আচড়ের দাগ। তার গলায়ও দাগ ছিল।

তিনি বলেন, দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় মেয়েটাকে ধর্ষণ করে অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে নরপিশাচরা।

এ ব্যাপারে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমার পাশাপাশি ওসি (তদন্ত), আমার এসআইরা কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা অতিদ্রুত এই ঘটনার ক্লু উদঘাটনে সক্ষম হবো। অপরাধী যত চালাকই হোক আইনের হাত থেকে কেউ পার পাবে না।

ভিডিও দেখুন-

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’