জলঢাকায় দীর্ঘ ১০ বছর শিক্ষা কার্যক্রম না থাকলেও এমপিওভুক্ত!

ফরহাদ ইসলাম, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি- নেই কোন শিক্ষার্থী, অল্প ক’টি ব্রেঞ্চ পাওয়া গেলেও ময়লা আর্বজনায় ভরপুর। প্রতিষ্ঠানে নেই অবকাঠোমো। কাগজে সকল কর্মকান্ড দেখানো হলেও বাস্তবে দেখা যায়নি ওই সকল কর্মকান্ডের।

সম্প্রতি অবকাঠামো নির্মাণের কাজে নেমেছেন ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির ছিল না কোন কার্যক্রম। এমনকি তথ্য গোপন করে চলতি বছর এমপিও ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে বালারপুকুর মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড বিএম কলেজ।

সরেজমিনে ওই কলেজ গিয়ে দেখা যায়, গত ২৩ অক্টোবর এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে গড়তে তোড়জোড় শুরে করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তৈরি করা হচ্ছে নতুন ভবন। প্রতিষ্ঠানের নতুন করে মাঠ ভরাটের কাজও চলছে। ধান ক্ষেতের ভিতর দিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন রাস্তা। যা বর্তমানেও চলমান। প্রতিষ্ঠানটি গিয়ে আরও দেখা গেছে বিএম কলেজ হলেও নেই কম্পিউটার ল্যাব, শিক্ষার্থী ও অবকাঠামো। এমনকি নতুন করে নেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

কাগুজে ৮জন শিক্ষক ও ৬জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া থাকলেও দিতে পারেননি শিক্ষার্থীর সংখ্যাসহ কলেজের কোন তথ্য। কলেজটির নাম মহিলা কলেজ হলেও নেই বাউন্ডরী ওয়াল ও মেয়েদের ওয়াশ রুম। এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর থেকে কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কাশেম সারাদিন ব্যস্ত থাকছেন কলেজের কাগজপত্র তৈরীসহ নতুন অবকাঠামো নির্মাণ কাজে।

কলেজ সংলগ্ন স্বপন বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা জানান,দীর্ঘ বছর থেকে কলেজটিতে কোন শিক্ষার্থী আসতে দেখেনি। দুই একজন শিক্ষক মাঝে মাঝে যাতায়াত করেন। বর্তমান্ওে কলেজে শিক্ষার্থী না থাকলেও এমপিও তালিকায় নাম আসার পর এখন অনেক শিক্ষকের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। তবে এলাকার চেয়ারম্যান হওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি শিমুলবাড়ী ইউ’পি চেয়ারম্যান হামিদুল হক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক অবস্থা ভালনা। তিনি আরও বলেন, বিএম ও কারিগড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি করেন কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। সেখানে মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের কোনভাবে মনিটরিং করার সুযোগ নেই।

প্রতিষ্ঠানে বিএম শাখায় ১১ জন ও ভোকেশনাল শাখায় ৯জন কর্মরত শিক্ষক থাকলেও পাওয়া যায়নি হাজিরা খাতা। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ আবুল কাশেমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া না গেলে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজাউদ্দৌলা অবকাঠামোগত দুর্বলতা স্বীকার করে বলেন, যেহুতু প্রতিষ্ঠানটি এমপিভুক্ত হয়েছে তাই এখন তদারকি করে দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করবো।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’