রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতার্তদের কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন ইউএনও

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র শীতে জুবু থুবু দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের ইসলামপুরের সুধা বেওয়া (৭০)। সামর্থ্য নেই একটি কম্বল কেনার। তাই পুরোনো সব কাপড়গুলো একত্রিত করে বিছানায় কাতর, চেষ্টা করছেন ঘুমানোর কিন্তু কিছুতেই চোখে ঘুম আসছে না।

তীব্র শীত উপেক্ষা করে শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় কম্বল নিয়ে সেই সুলেখা বেওয়ার বাড়িতে হাজির হন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মশিউর রহমান। নিজ হাতে সুলেখা বিবির গায়ে কম্বল পরিয়ে দেন তিনি।

গরম কম্বলের উষ্ণতায় ইউএনওকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে বলে ওঠেন, ‘এখন জিওটা (আত্মা) এনা শান্তি পালো বা। এনা গরম কম্বল না থাকাত কয় দিনের শীতোত মরবা লাগছুনু।’

একই অবস্থা ওই গ্রামের প্রতিবন্ধী মন্টু মিয়ার (৬৫)। পর্যাপ্ত শীতের কাপড় না থাকায় তীব্র শীতে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। বেশ কয়েকদিন জনে জনে আকুতি জানিয়েও মেলেনি একটি কম্বল। ইউএনওর দেওয়া কম্বল পেয়ে চোখে মুখে প্রশান্তি দেখা দেয় মন্টু মিয়ার।

গত কয়েক দিনের তীব্র শীতে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় শীতার্তদের মাঝে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। প্রকৃত শীতার্তদের মাঝে সরকারের দেওয়া কম্বল পৌঁছে দিতে নিজেই উপজেলার প্রতিটি প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তাদের মাঝে কম্বল বিতরণ শুরু করেছেন ইউএনও মশিউর রহমান। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কম্বল বিতরণ করছেন তিনি।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মশিউর রহমান জানান, গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীতের কারণে সাধারণ মানুষ খুব কষ্ট পাচ্ছে। নবাবগঞ্জ উপজেলায় সরকারিভাবে ৫ হাজার ২শ’ টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসব কম্বল প্রকৃত শীতার্তদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং শীতার্তদের অন্যান্য কোনও সমস্যা রয়েছে কিনা তার খোঁজ খবর নিতে নিজে গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন তিনি।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’