হাতিরঝিলে দেখা মিলল মানব কুকুর!

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- টুটুল চৌধুরী যার গলায় শিকল বাঁধা। সেই শিকল ধরে আবার টেনে নিয়ে যচ্ছে এক তরুণী। তার নাম সেঁজুতি। সম্প্রতি এমন দৃশ্য রাজধানীর হাতিরঝিলে দেখা গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

জানা গেছে, সেঁজুতি ও টুটুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইন্টিং ও ড্রয়িংয়ের শিক্ষার্থী।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও অফিস জানিয়েছে, ‘এ ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন সেঁজুতি ও টুটুল। পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও তারা মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েছেন।’

আসলে এটি একটি ‘পারফর্মিং আর্ট’। বাংলাদেশে এ ধরনের আর্ট দেখা যায় না বললেই চলে। পশ্চিমা ধারণার এই পারফর্মিং আর্ট প্রথম দেখা যায় অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। ১৯৬৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্য রাস্তায় ভ্যালি এক্সপোর্ট ও পিটার উইবেল এই পারফর্মিং আর্টে অংশ নেন। আর হাতিরঝিলের রাস্তায় পারফর্মিং আর্টের শিল্পীরা হলেন টুটুল ও সেঁজুতি।

এ পারফর্মিং আর্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে- কার্টুনে যেমন বিভিন্ন প্রাণীকে মানুষের মতো কথা বলা ও আচরণগতভাবে দেখানো হয়; তেমনই এখানে মানুষকে প্রাণী চরিত্রে দেখানো হয়।

সেঁজুতি তার আর্টকে ‘সমাজতাত্ত্বিক’ ও ‘আচরণমূলক’ কেস স্ট্যাডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে এই পারফর্মিং আর্টের উদ্দেশ্য হলো- কার্টুনে যেমন বিভিন্ন প্রাণীকে মানুষের মতো কথা বলা ও আচরণগতভাবে দেখানো হয় তেমনি এখানে মানুষকে প্রাণী চরিত্রে দেখানো হয়েছে।

সেঁজুতি বলেন, এই ছবিতে একজন পুরুষের গলায় রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এক নারী। এটা আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা আরও ভালো কোনও সামাজিক অবস্থার চিত্র দেখায় না। বরং সমাজ আমাদের ওপর যে সিস্টেম চাপিয়ে দিয়েছে সেটাই ফুটে উঠেছে এই আর্টে। আমরা যে কাজটা করেছি এই কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং এই কাজটাকে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিয়েছে সেটাই দেখতে চেয়েছি।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ পারফর্মিং আর্টের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয় নেতিবাচকভাবে। সেখানে বলা হচ্ছে, হাতিরঝিলে দেখা গেল ‘মানব কুকুর’ কিংবা আমাদের সমাজে ঢুকে গেল পশ্চিমা নিম্ন প্রকৃতির সংস্কৃতি।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’