সৈয়দপুরের নিরিবিলি হোটেলের মালিক কে?

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ ডাঃ জিকরুল হক রোডে অবস্থিত নিরিবিলি হোটেল। পাকিস্তান আমলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শ্রী ভুবেনশ্বর প্রসাদ জয়সওয়াল রেলওয়ের প্রায় ৩৫০০ বর্গফুট জায়গায় এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।

তার ৭ ছেলে। তারা হলেন- সুভাষ প্রসাদ জয়সওয়াল, মদন প্রসাদ জয়সওয়াল, প্রকাশ প্রসাদ জয়সওয়াল, বিকাশ প্রসাদ জয়সওয়াল, রাকেশ প্রসাদ জয়সওয়াল এবং প্রদীপ প্রসাদ জয়সওয়াল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনিই এই হোটেলটি চালাতেন। চলতি বছরের ২৪ মে রংপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ভুবেনশ্বরের মৃত্যু হয়। এরপরই শুরু হয় নিরিবিলি হোটেলের মালিকানা নিয়ে ছলচাতুরী।

অযৈাগ উঠেছে, মৃত্যুর পর তার ছেলেদের মধ্যে নিরিবিলি সহ সব সম্পত্তি বন্টনের কথা উঠলে ওয়ারিশন সনদের জন্য পৌরসভায় আবেদন করলে ভুবেনশ্বরের ৬ ছেলে  সুভাষ, মদন, প্রকাশ, বিকাশ, রাকেশ জানতে পারে আগেই প্রদীপ এককভাবে নিরিবিলির সম্পত্তি কুক্ষিগত করার জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারী) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলের প্রবেশদ্বারের ছাদে হোটেলের নামের নিচে প্রোপাইটরের নাম লেখা আছে প্রদীপ প্রদীপ কুমার। অথচ আগের সাইনবোর্ডে ্প্রোপাইটরের নাম অন্যজনের ছিল, যেটি কালো কালি দিয়ে মুছে দেয়া হয়েছে।

হোটেলে গিয়ে তাকে পাওয়া না গেলে তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি নীলফামারীনিউজকে জানান, ফোনে কথা না বলে তিনি সামনাসামনি কথা বলবেন। তবে তার আরও ৬ভাই আছে সে কথা তিনি স্বীকার করেন।

স্বর্গীয় ভুবনেশ্বরের এক সন্তান মদন প্রসাদ জয়সওয়াল নীলফামারীনিউজকে বলেন, ন্যায় বিচারের আশায় তিনিসহ বঞ্চিত ৬ ভাই সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, পৌর পরিষদ ও কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা পর্যায়ক্রমে পৌর পরিষদ, রাজনৈতিক ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের দ্বারস্থ হন। কয়েক দফায় বিভিন্ন স্থানে বৈঠক হলেও কোন ভাবেই প্রদীপ নিজ অবস্থান থেকে সরে আসেননি এবং হোটেলের অংশ ভাগ-বাটোয়ারায় সম্মত হননি।

নাম না প্রকাশের শর্তে একটি সূত্র জানায়, প্রদীপ তার বাবা ও মাকে শরীরিক ও মানষিক নির্যাতন করতো। এমনকি বাবার মৃত্যুর খবর জানার পরও তার চোখে কোন জল আসেনি উল্টো সে বলেছে, মারা গেছে এখন লাশ তুলে ফেলে দাও।

সূত্রটি আরো জানায়, শহরের পার্শ্ববর্তী রাবেয়া মোড়ের সামনে দেবীগঞ্জ এলাকায় বড় ভাই মদনের সাথে যৌথ মালিকানায় একটি ফ্যাক্টরী করেন প্রদীপ। কিন্তু পরে সেখান থেকে বড়ভাইয়ের লগ্নি করা ১৫ লক্ষ টাকাসহ সকল কিছু থেকে বঞ্চিত করে সে এককভাবে নিয়ন্ত্রন নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ফিসফিড, পোল্ট্রি ফিড ও অন্যান্য ভেজাল উপকরণ দিয়ে সয়াবিন বড়ি তৈরি করছেন তিনি। যা মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এছাড়াও বাংলাদেশসহ ভারতের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে প্রদীপের। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রেখেছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে জরুরী পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’