সৈয়দপুরে গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের দাবিতে গনস্বাক্ষরকৃত আবেদন-ব্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গড়িমসি

নীলফামারনিউজ,ডেস্ক রিপোর্ট–নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের নিচুকলোনীর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত অটোরিক্সা ব্যাটারি চার্জার গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের দাবিতে সৈয়দপুর নির্বাহী প্রকৌশলী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ নেসকো দপ্তর বরাবর গনস্বাক্ষরকৃত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার(৩১ডিসেম্বর)সৈয়দপুর নেসকো’র নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে এলাকাবাসীর পক্ষে মো.জাকারিয়া হাসান জাকির গনস্বাক্ষরকৃত আবেদনটি জমা দেন।এছাড়া অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরে আবেদনের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।

আবেদনে জানানো হয়েছে,সৈয়দপুর নীচু কলোনীর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত অটোরিক্সা ব্যাটারি চার্জার গ্যারেজের কারণে ওই এলাকায় দেখাদিছি দারুণ বৈদ্যুতিক লো ভোল্টজ।লো ভোল্টেজের কারণে প্রায় ব্যক্তির নষ্ট হচ্ছে টিভি, ফ্যান, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ধরনের দামি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী।

এছাড়াও চার্জার ব্যাটারিতে ব্যবহৃত সালফিউরিক এসিডের দুর্গন্ধে পরিবেশ হচ্ছে দূষিত।সালফিউরিক এসিডের দুর্গন্ধে এলাকার শিশু ও বৃদ্ধা দারুন শ্বাসকষ্ট ও স্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে রয়েছে।আলাদা ভাবে কোনো বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার না নিয়ে আবাসিক এলাকার বিদ্যুৎ দিয়ে চলে অটোরিক্সা ব্যাটারী চার্জার গ্যারেজটি।আর এই কারণে দেখা দিয়েছে ওই এলাকায় বৈদ্যুতিক লো ভোল্টজ এমনকি বৈদ্যুতিক লোড সেটিংসের মতো ঘটনাও ঘটছে।

এমনকি দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে বিদ্যুৎ চুরি করে গ্যারেজ চালানোর অপরাধে গত বছরের২৭ডিসেম্বর২০১৯তারিখে গভীর রাতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এক অভিযান পরিচালনা হয়।এতে গ্যারেজের মালিক মো.আজাহারুল ইসলাম জয়ের অটোরিক্সা ব্যাটারি চার্জার গ্যারেজে বিদ্যুৎ চুরির করে ব্যবহার করার কারণে দুইটি মিটার বৈদ্যুতিক তার জব্দ করে নিয়ে যায় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

নীচু কলোনিবাসির দাবি, বিদ্যুৎ চুরি হওয়ার কারণে সরকারের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।মানুষ যাহাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পায়।এইজন্য ওই অটোরিক্সা ব্যাটারি চার্জার গ্যারেজটির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের দাবিতে গনস্বাক্ষরকৃত আবেদন জমা দেওয়া হয়।
গ্যারেজের মালিক বিদ্যুৎ চুরি করে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের তার নিয়েছিল। এতে বিদ্যুতের তারে যে কোনো শিশু বা পথচারীর দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

বিদ্যুৎ চুরি বন্ধে প্রচলিত যে আইন রয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে, শিল্প বাণিজ্যিক কাজে বিদ্যুৎ চুরি করলে পাঁচ বছর জেল।পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা বা ব্যবহৃত বিদ্যুতের দ্বিগুণ জরিমানা বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার আইনে উল্লেখ রয়েছে। অটোরিক্সা ব্যাটারি চার্জার গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে ও বিদ্যুৎ চুরির সাথে জড়িত ব্যক্তিকে শাস্তির হাত থেকে বাঁচাতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে বলে বিশেষ সুত্রে জানা যায়।আবেদনের বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে যদি গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। এরপর কোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা ঘটে তা হলে নেসকো কর্তৃপক্ষকে এই দায়ভার নিতে হবে বলে এলাকাবাসী জানান।

তারা বিদ্যুৎ চুরির সাথে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন।

এব্যাপারে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ নেসকো সৈয়দপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চুরির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।তবে কি ধরনের শান্তি হবে তিনি সঠিক জানাননি।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’