জলঢাকায় রাত পোহালেই লাগামহীন মাইকিং, অতিষ্ঠ পৌরবাসী!

ফরহাদ ইসলাম, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি- ‘আর নয় ঢাকা-আর নয় রংপুর, এখন আপনার হাতের নাগালে অমুক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার’ তমুক ক্লিনিকে এখন থেকে প্রতি সোমবার রোগি দেখবেন”।

আবার কখনও সার্কাস, বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুল, বেসরকারি স্কুল-কলেজ, কোচিং সেন্টার, হারবাল দাওয়াইখানা, ধান,ভুট্টা বীজ, বিভিন্ন ধরনের খেলা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে রোগী দেখার প্রচারে নীলফামারীর জলঢাকায় পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা বা ভ্যানে দুই প্রান্তে দুটি মাইক লাগিয়ে এসব ভাষা ব্যবহার করেই বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রচার করে যাচ্ছেন বিজ্ঞাপনদাতারা।

আর এসব অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর নেই কোন লাইসেন্স। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন জলঢাকাবাসী। বিশেষ করে রাত পোহালেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন পৌরবাসী। সকাল হলেই শুরু হয় মাইকিংয়ের প্রচার। শোনা যায় রাত ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত। শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি চেয়েও কোন প্রকার প্রতিকার হয়নি। এ দিকে প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দিনের পর দিন মাইকের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা বেড়েই চলেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৌর শহর থেকে শুরু করে উপজেলার সর্বত্র চলছে মাইকিং উপদ্রব। অথচ বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে সংশি¬ষ্ট প্রশাসনের অনুমতি নেয়ার বিধান চালু থাকলেও তার তোয়াক্কা করছে না সংশি¬ষ্টরা।

কিছু কিছু প্রচারের ভাষা ব্যবহারের চিত্র আরও মারাত্বক। কোনো কোনো বিজ্ঞাপনে এমন সব আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার হয় যা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন হাট-বাজারে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন কানে আসে। বিজ্ঞাপনদাতা নারী-পুরুষের গোপন ও জটিল রোগের চিকিৎসকরাও তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সেখানে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘসময় প্রচার-প্রচারণার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী,বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারন লোকজন নানা রকম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে।

পৌরশহরের মাসুদ রানা,সিরাজুল ইসলাম,সামসুল ইসলাম,বাবুসহ অনেক ব্যবসায়ী জানান,‘‘ মাইকিংয়ের উচ্চ আওয়াজের কারনে দোকানে বসে থাকা মুসকিল হয়ে পড়ে। আমরা এই উচ্চ আওয়াজ থেকে রেহাই পেতে চাই।’’

লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারে চানতে চাইলে নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ রনজিৎ কুমার রায় বলেন,‘‘তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’’

এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘‘ উচ্চ আওয়াজে প্রচার হওয়া ও অনুমতি ছাড়া মাইকিংগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন অব্যাহত রয়েছে।’’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম ফেরদৌস বলেন,‘‘অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে এসব মাইকিংগুলোর বিরুদ্ধে বিধি অনুয়ায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’’

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’