যন্ত্র আমদানির পর যেন পড়ে না থাকে :প্রধানমন্ত্রী

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট-দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার পাশাপাশি তা ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে দক্ষ জনবল তৈরিরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যন্ত্র আমদানির পর যেন পড়ে না থাকে। আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার পাশাপাশি তা ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে (একনেক) তিনি এ নির্দেশনা দেন । সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি জানান, সভায় ৪৩২৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ৪ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উত্স থেকে ৬৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সভায় ১১৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয় শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে হাতিরঝিল-রামপুরা সেতু-বনশ্রী-শেখেরজায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা মহাসড়ক (চিটাগাংরোড মোড় এবং তারাবো লিংক মহাসড়কসহ) চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য সহায়ক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হবে। পরবর্তীতে চার লেনের কাজ হাতে নেওয়া হবে, ফলে সিলেট ও চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠতে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ীর রাস্তায় চাপ কমে আসবে। সূত্র জানায়, সড়ক বিভাগের প্রস্তাব অনুসারে হাতিরঝিল সংলগ্ন রামপুরা সেতুর কাছ থেকে শুরু হয়ে বনশ্রী-মেরাদিয়া-শেখেরজায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। সড়কটির একটি অংশ ডেমরা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোডে শেষ হবে। আরেকটি অংশ সুলতানা কামাল সেতু হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাবো লিংক মহাসড়ককে যুক্ত করবে। সহায়ক প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তীতে চার লেনের কাজ হাতে নেওয়া হবে।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো—৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী ওয়াসা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ৯৫৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভান্ডাল জুড়ি পানি সরবরাহ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, ৭৯৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং প্রকল্প, ৪৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক (সাইনবোর্ড-চাষাঢ়া) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প, ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, ১৯১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার আওতাধীন সুরমা নদীর ডান তীরে অবস্থিত দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, রক্ষীবাউর ও বেতুরা এলাকায় নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এবং ৩৯৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদী তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্প।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’