নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে প্রধান শিক্ষককে মারধর, মামলার ৭দিনেও আসামী গ্রেফতার হয়নি!

প্রধান শিক্ষককে মারধর,শিক্ষক নেতারাও নিরব
মামলার ৭দিনেও আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর,কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি- নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষককে মারধর করেছে। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা হলেও এক সপ্তাহে কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় শঙ্কা নিয়ে জীবন যাপন করছেন প্রধান শিক্ষক।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মাগুড়া শাহ্পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা প্রধান শিক্ষককে হুমকি দিয়ে আসছে ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি শাহ্ মোঃ মুরাদ রুবেল। কিন্তু ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ম মোতাবেক কমিটির জন্য শিক্ষার্থীদের নোটিশ দেয়া,অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা,মাইকিং করা, ও স্কুলের আশে পাশে নোটিশ লাগিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভাপতি শাহ্ মোঃ মুরাদ রুবেল স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের সামনে প্রধান শিক্ষককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে প্রধান শিক্ষককে তার চেয়ার থেকে তুলে দিয়ে নিজের ওই চেয়ারে বসেন। আর ভবিষ্যতে কমিটির ব্যাপারে কোন প্রচার প্রচারণা চালালে তার হাত পা ভেঙ্গে দেয়ারও হুমকি দেন এবং নোটিশের কাগজপত্র ছিড়ে ফেলে চলে যান।

গত ২১জানুয়ারী বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সাবেক সভাপতি শাহ্ মোঃ মুরাদ রুবেলসহ তার দলবল মিলে লোহার রড ও লাঠি সোটা নিয়ে স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষককে বেধড়র মারপিট করে স্কুলের আসবাব পত্র ভেঙ্গে ফেলে প্রধান শিক্ষককে রুমের মধ্যে তালা দিয়ে রাখে। এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে সাবেক সভাপতি শাহ্ মোঃ মুরাদ রুবেল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ওই দিনই কিশোরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। বিষয়টি তদন্ত করে ২৪জানুয়ারী কিশোরগঞ্জ থানা মামলাটি এজাহার ভুক্ত করেন। মামলা নং-১০।

কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা হওয়ার পর একই দিনে কিশোরগঞ্জ উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি) ইংরেজী বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে রংপুরের বাসা ফেরার পথে রংপুর সদরের পাগলাপীর নামক স্থানে সাবেক সভাপতি শাহ্ মোঃ মুরাদ রুবেল তার গতিরোধ করিয়া মাগুড়া শাহ্পাড়ার জমাজ্জল হোসেন শাহ্র ছেলে আব্দুর রশিদ শাহ্ ওরফে হোদো শাহ্ (৫৫),জালাল উদ্দিন শাহ্র ছেলে শাহ্ মোঃ মুরাদ রুবেল (৪০), আব্দুল কাদেরের ছেলে সোহেল শাহ্ (৩৫), মোসলেম উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক (৪০) ও আশেক আলীর ছেলে লাভলু মিয়া (৩০) আমার মাথায় ও পায়ে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন এতে আমার স্ত্রী জেসমিন আক্তার আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তার চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন এবং তার ভেনিটি ব্যাগ থেকে টাকা বের করে নিয়ে যান। আমাকে ও আমার স্ত্রীকে উপস্থিত লোকজন উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

এদিকে ২৭জানুয়ারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে মারধরের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) যুগ্মসচিব খান মোঃ নুরল আমিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা বে-সরকারী (সাবেক) প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,প্রধান শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি শুনেছি। তবে সেটা আমাদের উপজেলার বাহিরে পাগলাপীরে। দোষীদের গ্রেফতারের বিষয়ে একটি মানববন্ধন করার কথা আছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হেদায়েত হোসেন বলেন, আমরা এ ব্যাপারে সকল শিক্ষক নেতাদের সাথে বসেছিলাম এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার পর তারা আশ্বস্ত করেছেন। তারপরেও প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে না পারলে শিক্ষক সমাজ অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

এ ব্যাপারে শাহ্ মোঃ মুরাদ রুবেল সাথে তার ব্যক্তিগত ০১৭১৭০৩৪৩#৪ নম্বরে চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাওয়া।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হারুন অর রশীদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমরা আসামীকে গ্রেফতারের ব্যাপারে তৎপর আছি।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’