শীর্ষ নিউজ

করোনার উপসর্গ নিয়ে নারীসহ চারজনের মুত্যু

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, শেরপুর ও সুনামগঞ্জে জ্বর-শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন অসুস্থতা নিয়ে তিনজন মারা গেছেন। এর মধ্যে সোমবার সকালে তিনজন এবং রবিবার রাতে একজন মারা যান। চারজনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকার লোকজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে তিনজনের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে। আরেকজনের নমুনা নেয়া যায়নি।

আমাদের দিনাজপুর নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, দিনাজপুরের বিরামপুরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ফরহাদ হোসেন অপি (৪০) নামে একব্যক্তির মুত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের তপসীগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফরহাদের মৃত্যুর পর ওই বাড়ির চারজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

কুমিল্লায় হোম কোয়ারেন্টাইনে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে শ্রমিক হিসেবে থাকা ফরহাদ জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ১২দিন আগে নিজ গ্রামের বাড়ি বিরামপুরে পালিয়ে আসেন।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ফরহাদের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস। তিনি জানান, ফরহাদের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি আছে কি না তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে আইসিডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফরহাদ হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়।
কুষ্টিয়ায় ইজিবাইক চালকের মৃত্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়া শহরতলীর চৌড়হাস এলাকায় এক ইজিবাইক চালকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি গত তিনদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, সর্দি ও গলাব্যথায় ভুগছিলেন। তবে এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ব্যক্তির আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের লোকজন তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ওই ব্যক্তির শরীরে করোনা সংক্রমণ ছিল কিনা তা নিশ্চিত নই। তবে পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনি শ্বাসকষ্ট, সর্দি-জ্বর, গলাব্যথা অনুভব করছিলেন। তিনি আরো বলেন, ওই ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়েছে। মৃতদেহ থেকে করোনা ভাইরাস আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তবে মরদেহ কিভাবে দাফন হবে তা আইইডিসিআর এর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোবায়ের হোসেন চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পরেই আমরা মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ আশেপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করেছি। সেই সঙ্গে ওই এলাকায় জনগণের চলাচল ও সীমিত করা হয়েছে।

শেরপুরে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, নালিতাবাড়ীতে আব্দুল আওয়াল নামে এক নির্মাণশ্রমিক তিন দিন তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা গেছেন। ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে সোমবার দুপুরে তার শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে তা ঢাকার আইইসিডিআরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন করেছে। গেল রাত ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ পলাশীকুঁড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে মারা যান আওয়াল।

মৃতের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, আব্দুল আওয়াল অন্তত এক যুগ ধরে শ্বাসকষ্ট (হাঁপানি) জনিত রোগে ভুগছিলেন। বর্তমানে বাগেরহাট জেলার রামপাল খয়লারহাট এলাকার পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন স্থানে একটি কনস্ট্রাকশন কাজের পাইলিং মিস্ত্রি হিসেবে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে অঘোষিত লকডাউন চলায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তিনি এবং সঙ্গীয় অন্যান্য শ্রমিকরা গত বুধবার সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে নিজ বাড়ি পলাশিকুড়ায় ফেরেন। এরই মধ্যে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার জ্বর আর শ্বাসকষ্ট বেড়ে তিনি মারা যান।

মৃতের ভাতিজা জাকির হোসেন বলেন, চাচা দীর্ঘদিন যাবত শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন। রবিবার রাতে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে তিনি মারা যান।

আওয়ালের সহকর্মী একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, তার (আওয়াল) শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ ছিল না। আমাদের সঙ্গেই কাজ করতেন। আমরা সবাই একসঙ্গে সুস্থ অবস্থায় বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরেছি। তিনি মূলত আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন।

আইইসিডিআর থেকে রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনোয়ারুল রউফ।

মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন কারা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে তা ঢাকার আইইসিডিআরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আইইডিসিআরের নির্দেশনা মেনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। এ সময় তিনি জনসাধারণকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সুনামগঞ্জে নারীর মৃত্যু

এদিকে সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার পৌর শহরে শ্বাসকষ্টে এক নারীর (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। তিনি শহরের পূর্ব নতুন পাড়া এলাকার বাসিন্দা। এই নারীর মৃত্যুর পর এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সোমবার সকাল ৬টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ওই নারীর স্বামী অসুস্থ হওয়ায় করোনা পরীক্ষার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। আর পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ও নিহতের পরিবারিক সূত্র জানায়, ওই নারী দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। একই সঙ্গে গত কিছুদিন আগে একটু জ্বর ও কাশি হয়। এ জন্য তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করছিলেন। রবিবার রাতে তিনি এবং তার স্বামী একই ঘরে ঘুমিয়েছেন। রাত তিনটার দিকে তার অবস্থার অবনতি হয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, যতটুকু জেনেছি প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। আর তিনি তার বাড়িতেই মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের বিষয়ে আমাদের আগে কোনো কিছু জানানো হয়নি। তাকে দ্রুত দাহ করায় নমুনা সংগ্রহ করা যায়নি। তার স্বামীও অসুস্থ। তার নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তাকে সিলেটে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।