ডিমলা

নীলফামারীর দুই উপজেলার মানুষকে সচেতন করলো সিএসআর উইন্ডো বাংলাদেশ

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- ছড়িয়ে পড়া কোভিড ১৯ নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও বিস্তার ঠেকাতে নীলফামারীর সৈয়দপুর ও ডিমলা উপজেলায় তিন দিনব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সিএসআর উইন্ডো বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৬ শে মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকে প্রথম ধাপে তিন দিনব্যাপী এই কার্যক্রমটি এই দুই উপজেলাসহ বর্তমানে দেশের ৮টি উপজেলায় চলছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৮ টি উপজেলার প্রায় চল্লিশ লক্ষ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছে সংস্থাটি।

‘কাইন্ডনেস অ্যাম্বাস্যাডারস্ – কাইন্ডনেস ক্যাম্পেইন ফর করোনা’ নামের এই কার্যক্রমে সংস্থাটির সহযোগী হিসেবে রয়েছে ইপিলিওন ফাউন্ডেশন ও ঢাকা হাব, গ্লোবাল শেপারস্। আর তাদের কার্যক্রম সফল করতে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকগণ।

যেসব উপজেলায় এই তিনদিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইনটি চলছে সেগুলো হলো- কে এম শাহ আলমের নের্তৃত্বে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর, সাতকানিয়া উপজেলায় নেতৃত্বদানকারী স্বেচ্ছাসেবক জিয়াউদ্দিন শরিফ, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় কাজ করছেন রাজু আহমেদ, রাজশাহীর পবায় রয়েছেন রিমন চৌধুরী, ভোলার চরফ্যাশন দেখছেন মোঃ শাহ-পরান জয়, সিলেট সদর উপজেলার নেতৃত্বে আছেন শ্রীমান রনি পাল। নীলফামারীর সৈয়দপুরের দায়িত্বে রয়েছেন মহিবুল্লাহ আকাশ ও একই জেলার ডিমলায় কার্যক্রমটি চালাচ্ছেন মুনজুরুল হাসান।

২৬ মার্চের ন্যায় শুক্রবারও (২৭ মার্চ) এসব উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লা, দোকান গুলোতে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষকে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব বিস্তার, প্রতিকার ও করণীয় সম্পর্কে প্রচারণাবাণী শোনানো হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লিফলেট সন্নিবেশন করা হয়।

প্রচার করা বার্তায় বলা হয়, বিদেশ ফেরত সুস্থ্য অথবা অসুস্থ্য প্রতিটি ব্যক্তি ১৪ (চৌদ্দ) দিন জনমানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে এবং পরিবার পরিজন হতে বিচ্ছিন্ন থেকে নিজ গৃহে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। ২০ বা ৩০ সেকেন্ড ধরে ঘন ঘন সাবান পানি দিয়ে হাত ধুঁতে হবে। শারীরিক সংস্পর্শ যেমন হ্যান্ডশেক, কোলাকুলী থেকে বিরত থাকুন। জনসমাবেশ, জনসমাগম, গণপরিবহণ, হাট-বাজার, ভীড়-জটলা জরুরী প্রয়োজন ছাড়া পরিহার করুন। হাচি-কাশির সময় নাক, মুখ ঢেকে রাখুন। আক্রান্ত বা সম্ভাব্য রােগী হতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

ক্যাম্পেইনটির সমন্বয়ক আহসান রনি জানান, তৃণমূল বা গ্রামের মানুষের মধ্যে এখনও সচেতনতা তৈরি হয়নি। নিজের এবং অন্যের নিরাপত্তার জন্যে বিদেশ থেকে ফিরে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। কিন্তু অনেকেই তা মানছেন না। এতে নিজের যেমন ক্ষতি হচ্ছে অন্যরাও ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। এছাড়া গ্রাম পর্যায়ের মানুষকে করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে সচেতন করতে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকগণ সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সচেতন করে যাচ্ছেন। আমরা সকলে সচেতন হলেই এই মহামারী থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, প্রথম ধাপের তিন দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইনটি শেষ হবে শনিবার (২৮ মার্চ)।