বাছাই সংবাদ

সংক্রমণের পরিসংখ্যান বলছে ‘পা মেলো না ঘরের বাইরে’

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- করোনাভাইরাস চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হয় গেল বছরের শেষ দিনে অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর। এরপর প্রায় এক মাস পর ইউরোপে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। গত জানুয়ারির ২৪ তারিখে ফ্রান্সে, দুদিন পর জার্মানিতে, তার তিনদিন পর ইতালিতে একের পর এক করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়া শুরু হয়। ঠিক একইসময়ে অর্থাৎ জানুয়ারির শেষ দিনে আটলান্টিকের অপর পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণ সংহারক ভাইরাসটির প্রকোপ ধরা পড়ে।

ইউরোপের দেশগুলি ও যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা বুঝে ওঠার আগেই ঝরে গেছে বহু মানুষের প্রাণ। এরইমধ্যে করোনার ভয়াল থাবায় মুষড়ে পড়েছে ইতালির মতো স্বাস্থ্যসেবায় উন্নত দেশ। এমনকি অপেক্ষাকৃত ভালো আবহাওয়ার দেশ স্পেনকেও ধুঁকতে হচ্ছে করোনা মোকাবিলায়। এই দুটি দেশের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য উঠেপড়ে লেগেছে করোনার লাগাম টানার চেষ্টায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশগুলির সরকার প্রথমে করোনার ভয়াবহতা কেমন হতে পারে তা আমলে নেয়নি। আর একারণেই এখন খেসারত গুনতে হচ্ছে বেশি। অন্যদিকে বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। দেশটির কর্তৃপক্ষও চীন এবং ইউরোপের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবমুখি পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে ট্রাম্পের বিরোধী মহল।

ইউরোপের মতো পরিস্তিতি এশিয়া বা বাংলাদেশে হয়নি বলে ঢেকুর তোলার কোনো কারণ নেই বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এখনও বাইরে কোনো প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন তাদের জন্য নিচের এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১ জানুয়ারি। একমাস পর ১ ফেব্রুয়ারিতে গিয়ে দাঁড়ায় ৭ জন। আর মার্চের প্রথম দিনে সেটি হয় ৭৪ জনে। তারপর দেখুন চলতি এপ্রিলের ১ তারিখে একইসময়ে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার জন।

এবার আসুন ইতালিতে। এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে ইতালির উন্নত এই দেশটি। ১ জানুয়ারি প্রথম ২ জন শনাক্ত। তারপর ২৯ ফেব্রুয়ারি শনাক্ত হলো ১১শ জন। আর ৩১ মার্চ ১ লাখ ৫ হাজার ৮০০ জন।

স্পেনে ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম ১ জন শনাক্ত হওয়ার আরও একমাস পর ১ মার্চ আক্রান্ত রোগী মিলল ৮৪ জন। আর ৩১ মার্চ সেটি গিয়ে দাঁড়াল ৯৬ হাজারে!

করোনায় স্পেনের অবস্থাও শোচনীয়।
করোনায় স্পেনের অবস্থাও শোচনীয়।

যুক্তরাজ্যে ৩১ জানুয়ারি ২ জন শানক্ত হয়। এরপর ১ মার্চ ৩৬ জন হয়ে মাস শেষে ৩১ মার্চ ২৫ হাজার ৫০০ জন।

জার্মানিতে ২৭ জানুয়ারি প্রথম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি ৪৬ জন হয়ে ২৭ মার্চ ৫১ হাজারে। এরপর ৩১ মার্চ সেটি হয় ৭১ হাজার ৮০০ জন।

ফ্রান্সে ২৪ জানুয়ারি ২ জন আক্রান্তের সন্ধান মিলে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ১২ জন শনাক্ত হয়। ২৪ মার্চ ২২ হাজার ৬০০ জন আর ৩১ মার্চ সেটি গিয়ে দাঁড়ায় ৫২ হাজার ৮০০ জনে।

এবার চলুন দক্ষিণ এশিয়ার দিকে নজর দিই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এরইমধ্যে দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে ভারত করোনার পরবর্তী কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে। ইউরোপের একই সময়ে ভারতও ৩০ জানুয়ারি প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছে বলে জানায়। এরপর ২৯ ফেব্রুয়ারি ৩ নাগরিক এবং ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১৪শ জন আক্রান্ত বলে জানিয়েছে দেশটি।

আর পাকিস্তান? ২৬ ফেব্রয়ারি ২ জন আক্রান্ত বলে জানানোর এক মাস পর ২৬ মার্চ ১২শ জন এবং ৩১ মার্চ আর তিন শ জন বেড়ে ১৯শ জনে পৌঁছেছে।

এই যে পরিসংখ্যান এর সঙ্গে সবশেষ আরও তিনদিনের আক্রান্তের সংখ্যা যোগ হলে অবস্থাটা কেমন দাঁড়াবে? ভয়ের চেয়েও জরুরি হলো ঘরে থাকা। সরকারের নির্দেশনাগুলো যথাযথ মেনে চলা।

চলুন বাংলাদেশের বাংলাদেশের অবস্থাটাও দেখে নিই। শনিবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭০। প্রথম শনাক্ত হয়েছিল ৮ মার্চ অর্থাৎ এখনো ১ মাস হয়নি । যেখানে অনেক দেশে ১ মাসে আক্রান্তের সংখ্যা কেমন ছিল সেটা ওপরের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। প্রায় সব দেশেই দুই মাসের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নেয় করোনাভাইরাস।

নির্দেশনা না মেনে চলাচলে যাতায়াতে মহামারী রূপ নিলে কি হবে সেটা আলাদা করে বলার কিছু নেই। তার আগেই নিজের, পরিবারের স্বার্থে ঘরে থাকাটাই একমাত্র কাজ বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারংবার বলে আসছে। প্রাণ সংহারক করোনাভাইরাস মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত এটাই একমাত্র পথ অবলম্বন বলে জানিয়ে আসছেন চিকিৎসাবজ্ঞিানীরা।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যের ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার রাত নাগাদ বিশ্বে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৭০৬ জন। মৃতের সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ৭৬৭ জন এবং এই পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৯৭ জন।