কিশোরগঞ্জ লীড নিউজ

অবশেষে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ পুরো ‘লকডাউন’ ঘোষণা

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- করোনাভাইরাস আক্রান্ত চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ১৪টি বাড়িসহ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১১৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য পাশ্ববর্তী উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ব্যবহার করা ও ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালু রাখা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. অনিক সরকারের শরীরে করোনাভাইরাসে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ১৩টি ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা একজনের বাড়িসহ ১৪টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তাদের বাড়িতে লাল কাপড় টাঙানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এসব বাড়ি লকডাউন করেছেন।

অন্যদিকে পুটিমারী ইউনিয়নের সব রাস্তাঘাট বন্ধ করে গোটা ইউনিয়নের লোকজনকে বাইরে যাওয়া-আসা নিষিদ্ধ করার কথা নিশ্চিত করেন ইউপি চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটন। মাগুড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হোসেন শিহাব জানান, ইতোমধ্যে ওই ডাক্তারের সংস্পর্শে আসা দুজনেরসহ তিনটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। আরও ১২টি বাড়ি লকডাউন করার কথাও জানান তিনি। এছাড়া চিকিৎসকের শরীরে ভাইরাস শনাক্তের পরেই উপজেলার কিছু কিছু এলাকার লোকজন নিজেই নিজেই তাদের গ্রামকে লকডাউন করে রেখেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় গোটা উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এই উপজেলা থেকে কাউকে ঢুকতে ও বের হতে দেয়া হচ্ছে না। এসময় জরুরি সেবা ছাড়া সব দোকান পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। ঘোষণাটি করেছে উপজেলা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১১৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন চিকিৎসক, ১১জন রোগী ও ৯৪ জন কর্মচারী রয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত চিকিৎসককে হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এদিকে ওই চিকিৎসক হাসপাতাল কমপ্লেক্স মোড়ে একটি ফার্মেমিতে বসে গত কয়েকদিন রোগী দেখেছেন বলে জানা গেছে। ফলে কিশোরগঞ্জ উপজেলাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে ফোন করে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চাচ্ছেন, কোন কোন এলাকার রোগী তিনি দেখেছেন। অনেকে বলছেন একজন চিকিৎসক যখন পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠালেন তারপর তিনি কেন হাসপাতালে বা চেম্বারে রোগী দেখলেন। তার অসাবধানতার কারণে কিশোরগঞ্জে যেসব রোগী তিনি দেখেছেন তাদের মাঝে এ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে। এর ফলে গোটা উপজেলার মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে নীলফামারী সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বর্মন বলেন, ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে আইইডিসিআরে বার্তা পাঠানো হয়েছে। শিগগির একটি টিম আসবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পার্শ্ববর্তী উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে বেছে নেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার গ্রামের মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যেহেতু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, অন্য চিকিৎসকরা হাসপাতাল চত্বরে কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা বন্ধ। আমরা বিকল্প স্থানে চিকিৎসা সেবা চালুর চিন্তা করছি।