ফেসবুক প্রেম কাল হলো সৈয়দপুর কলেজ ছাত্রীর

IMG_1464 copyমোঃ খলিলুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার: প্রতিদিন কত মৃত্যুই না ঘটছে! তাদের মধ্যে যেমন অস্বাভাবিক মৃত্যু রয়েছে তেমনি অস্বাভাবিক মৃত্যুও রয়েছে । আবার কিছু কিছু অস্বাভাবিক মৃত্যু কখনও কখনও মেনে নিতে কষ্টই হয় ।
মোছাঃ শারমিন আক্তার রুমি । সৈয়দপুর শহরের ওয়াপদা নতুনহাট এলাকার আবদুর রহিমের মেয়ে । সে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর কলেজে ইতিহাস বিভাগে অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী ছিল । দুই বছর আগে তার সাথে ফেসবুকে পরিচয় ঘটে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল গ্রামের মহম্মদ আলীর ছেলে মিতুল মিয়া মিঠু (২৬)’র । মিঠু ফায়ার সার্ভিস বিভাগে রাজশাহী হেড কোয়ার্টারে কর্মরত । তাদের মধ্যে মন দেয়া-নেয়া ভালই চলছিল । প্রেমিক মিঠু প্রায়ই কর্মস্থল কিংবা বাসা থেকে পালসার মোটরসাইকেল যোগে সৈয়দপুরে আসতো প্রেমিকার সাথে দেখা করতে । এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২১ নভেম্বর) মিঠু খুব সকালে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় মোটরসাইকেল সহ অপেক্ষা করতে থাকে । প্রেমিকা রুমি সকাল ১০টায় টার্মিনাল এলাকায় আসলে তারা দুজনই মোটরসাইকেলে চেপে রংপুর অভিমুখে যাত্রা শুরু করে । গন্তব্য হিসেবে বেছে নেয়, বিনোদন ও পিকনিক স্পটের নামে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা প্রেমিকযুগলের নিরাপদ ডেটিংস্পট ‘ভিন্নজগত’ ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রেমিক মিঠু পালসার মোটরসাইকেলটি প্রচন্ড গতিতে চালাচ্ছিল । সৈয়দপুর থেকে যাত্রা শুরুর কিছু দূরে কামারপুকুরের কলাবাগান এলাকায় পৌছলে একটি রিক্সাকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় চালক মিঠু । এসময় কড়া ব্রেক কষায় পেছনে বসা প্রেমিকা রাস্তায় প্রচন্ড ভাবে ছিটকে যায় । এতে সে মাথায় বড় ধরনের আঘাত পায় । কিন্তু মিঠু রাস্তায় পড়ে না যাওয়ায় সে পুরোপুরি অক্ষত থাকে । এরপর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে পাঠায় । এসময় প্রেমিক মিঠু মেয়েটিকে রেখে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় । পরে উত্তেজিত জনতা মিঠুকেও হাসপাতালে নিয়ে আসে । হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করে ।
এ ঘটনায় প্রেমিক মিতুল মিয়া মিঠু জানায়, ভিন্নজগত যাবার পথে পেছন থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় চালক প্রেমিক মিতুল মিয়া মিঠু সহ তার মটর মোটরসাইকেলটিও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
এরপর শুরু হয়ে যায় নাটক । স্থানীয় একজন ছাত্রলীগ নেতাকে হাসপাতাল চত্বরে ঘোরাঘুরি করে বিভিন্নজনের সাথে দূর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা যায় । হাসপাতাল চত্বরে প্রেমিক মিঠু দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকলেও ১টার পর থেকে মোটরসাইকেলসহ সে উধাও হয়ে যায় ।মেয়েপক্ষের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলেও তারা কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানায় ।  শুরু হয় ঘটনা নিয়ে রহস্যজটের।
এদিকে এ ঘটনায় দুপুর ১টার পর প্রেমিক মিঠু ও তার মোটরসাইকেল হাওয়া হয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী মহল প্রেমিক মিতুল মিয়া মিঠু সহ তার মোটরসাইকেলটি তাদের জিম্মায় রেখেছে। ফলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পুলিশ প্রেমিক মিতুল মিয়া মিঠুকে সহ মোটর সাইকেলটি তাদের জিম্মায় নিতে পারেনি।
এ ঘটনায় পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় । এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আমীরুল ইসলাম জানান, লাশের সুরতহাল করা হয়েছে । মেয়ের অভিভাবকরা থানায় রয়েছেন । এটি হত্যাকান্ড নাকি দূর্ঘটনা সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি । এবং মেয়ের অভিভাবক যদি মামলা করেন তবে ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’