শীর্ষ নিউজ সৈয়দপুর

সৈয়দপুরে যত্র-তত্র ব্যাঙ্গের ছাতার মত ফার্মেসীর দোকানঃ পরিচালনায় হাতুড়ে ডাক্তার, নেই কোন অভিযান

মোঃ আরিফ মন্ডল, স্টাফ রিপোর্টার:  সৈয়দপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই প্রতিনিয়তই বাড়ছে ফার্মেসীর দোকান। উপজেলার ৫ ইউনিয়নে রাস্তার ধারে ধারে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে কয়েক শতাধিক ফার্মেসীর দোকান। এসব ফার্মেসীর পরিচালনা করে আসছে নাস সর্বস্ব হাতুড়ে ডাক্তার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু মাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই গ্রামের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে এসব ফার্মেসী। প্রতিনিয়তই ফার্মেসী গুলোতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই হাতুড়ে চিকিৎসকেরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল সাধারন মানুষকে। এমনকি তারা উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিকসহ নিষিদ্ধ ও নিম্নমানের বিভিন্ন ধরনের ঔষধ ধরিয়ে দিচ্ছেন মূমূর্ষ রোগীর হাতে। এর ফলে এসব ঔষধ সেবন করে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে জীবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন গ্রামের অসচেতন মানুষজন। সরকারী ড্রাগ লাইসেন্স না থাকায় ঔষধের দাম খুবই বেশী করে নিচ্ছে ওইসব ফার্মাসিস্টরা। অন্য দিকে ফার্মেসী মালিকেরা চিকিৎসার নামে অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে রোগীদের হাজার হাজার টাকা।

উপজেলার আদানী মোড়, কামারপুকুর বাজার, তোফায়েলের মোড়, হাজারীহাট বাজার, হামুরহাট, ঢেলাপীড় বাজার, পোড়াহাট, চৌমুহনী বাজার, লক্ষণপুর বাজারসহ গ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট বড় অনেক ফার্মেসীর পাশাপাশি মুদির দোকানেও বিক্রি করা হচ্ছে দামী-দামী এন্টিবায়োটিকসহ সকল ধরনের দেশী-বিদেশী ঔষধ। ওই সকল ফার্মেসী দোকানে বড় বড় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে রোগীদের আকৃষ্ট করে সেবা দেওয়ার নামে ভূয়া চিকিৎসা দিচ্ছে তারা। তাদের অধিকাংশদের মধ্যে নেই একাডেমিক কোনো সনদপত্র। ফলে ভুল চিকিৎসায় অকালে ঝরে যাচ্ছে শত-শত প্রাণ। খুব শীঘ্রই হাতুড়ে ডাক্তারসহ অবৈধ ফার্মেসী মালিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রতি জোড় দাবি জানিয়েছে সৈয়দপুর উপজেলার সচেতন নাগরিকেরা।