নীলফামারীতে চলছে ‘ভাদর কাটানি’ উৎসব !

নীলফামারীনিউজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট- নীলফামারী জেলার সর্বত্র শুরু হয়েছে ভাদর কাটানি উৎসব। স্বামীর মঙ্গল কামনায় আবহমান কাল থেকে গ্রাম-বাংলার চিরায়ত এ উৎসবটি পালিত হয়ে আসছে।

এ অঞ্চলে বিশ্বাস রয়েছে যে, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী প্রথম ভাদ্র মাসের কোথাও তিনদিন, সাতদিন আবার কোথাও পুরো মাস পরস্পরের মুখ দেখতে পারবেন না। দেখলে স্বামীর চোখ অন্ধ হয়ে যাবে, অমঙ্গল হবে, ঝগড়া-বিবাদসহ তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হবে না। এ বিশ্বাস থেকে শ্রাবণ মাসের শেষদিনে নববধূরা পুরো ভাদ্র মাসের জন্য বাবা-মায়ের বাড়িতে নাইওর যান।

আগের বাংলা বছরের আশ্বিন মাস থেকে চলতি বছরের শ্রাবণ মাস পর্যন্ত যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের নিয়ে এ আয়োজন। ফলে বিবাহিত প্রত্যেকের জীবনে উৎসবটি মাত্র একবারই আসে।

নববধূকে আনতে তার ভাই, বোন, চাচা, চাচী, বন্ধু, বান্ধবী, প্রতিবেশীরা যান বরের বাড়িতে। সামর্থ্য অনুসারে সঙ্গে নিয়ে যান মুড়ি, পায়েশ, রকমারী মৌসুমী ফল ও মিষ্টি-মণ্ডা।

এ সময় এ অঞ্চলে কোনো কাজ-কর্ম না থাকায় কেউ কেউ ভাদ্র মাসের আগের দিন, আবার সামর্থ্যবানেরা হাতে কয়েকদিন থাকতেই যান জামাই বাড়িতে। জামাইপক্ষও সাধ্যমতো তাদের সমাদর ও আপ্যায়ন করেন। সময়মতো আবার নববধূকে ঘটা করে আনতে যান স্বামীর পক্ষ। তারাও তাদের সাধ্যমতো খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যান ছেলের শ্বশুর বাড়িতে।

ভাদ্র মাসকে স্থানীয়ভাবে ভাদর মাস বলায় এ আয়োজনকে ভাদর কাটানি বলা হয়। দরিদ্ররা বাড়ির হাঁস, মুরগি, গরু- ছাগল বিক্রি করে অথবা এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে সুদে ঋণ নিয়েও এ উৎসব পালন করে আসছেন।

স্থানীয় গবেষকদের মতে, হিন্দু সংস্কৃতি ও আচার থেকে সৃষ্টি হলেও বর্তমানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে পালন করছেন ভাদর কাটানি উৎসব। তবে কবে থেকে উৎসবটি এ অঞ্চলে পালিত হয়ে আসছে- এর কোনো সঠিক তথ্য কারো জানা নেই।

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হাফিজুল ইসলাম জানান, ভাদর কাটানি বাঙালি সমাজের অতি প্রাচীন একটি প্রথা। লোকাচার হলেও উৎসবটি সমাজ-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি জানান, এক সময় এ অঞ্চলের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা উৎসবটি জাকজমকভাবে পালন করতেন। তাদের এ রেওয়াজ ক্রমান্বয়ে সব মানুষকে প্রভাবিত করে। একপর্যায়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাড়িয়েছে।

Comments

comments

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’