নীলফামারীতে ঈদ বেড়ানো : ঈদ ছুটিতে কোথায় যাচ্ছেন বেড়াতে ?

নীলফামারীনিউজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট- ঈদের ছুটিতে নীলফামারীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র থেকে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন। জেনে নিন নীলফামারীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো সম্পর্কে-

নীলসাগর: সমুদ্র না হলেও সমুদ্রের নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা হয়েছে নীলসাগর। ধারণা করা হয়, ৮০ থেকে ৯০ ফুট পানি সারা বছরই থাকে এখানে। নীলফামারী জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ১৯৮০ সালে জেলার নামানুসারে নামকরণ করা হয় নীলসাগর। আছে সাগর পাড়ের মতো বৃক্ষরাজি তরুলতা, সুউচ্চ পাড় বেষ্টিত বেতবন আর গুল্মলতা। জেলা শহর থেকে ভ্যান, অটোরিকশা, বাস, মাইক্রোবাস, ট্রেন যোগাযোগের সুব্যবস্থা রয়েছে।

তিস্তা ব্যারাজ: তিস্তা নদী বাংলাদেশ ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। তিস্তা নদীর সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৩১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১১৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে অবস্থিত। দর্শনীয় ব্যারাজটি তিস্তা সেচ প্রকল্পের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। ব্যারাজ এলাকায় প্রতিদিনই বিনোদনপ্রেমী দর্শনার্থীরা ভিড় করেন।

নীলকুঠি: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে মৌজা নটখানায় নীল চাষের একটি বৃহৎ খামার ছিল। ১৮৪৭-৪৮ খ্রিস্টাব্দে নীল চাষ অলাভজনক হওয়ায় কৃষকরা নীল চাষ থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এতে নীলকরেরা কৃষকদের উপর অত্যাচার শুরু করে। তারপর কৃষকদের ব্যাপক বিদ্রোহের ফলে নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়। তখন নীলকরেরা যায় পালিয়ে। এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা, বুড়িতিস্তা, ইছামতি, চাঁড়ালকাটা, সর্বমঙ্গলা, সালকীসহ অনেক নদী। এ শহরের উপকেন্দ্র সর্বমঙ্গলা নদীর তীরে শাখা মাছা নামক দুটি বন্দর ছিল। এই বন্দর থেকে নীলকরদের মালামাল আমদানি ও রপ্তানি হত। ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ মে ডিমলার বাগডোগরায় মহকুমার প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ১৯ মে মহকুমা স্থানান্তর করে বর্তমান জেলা প্রশাসকের বাসভবন সংলগ্ন উঁচু টিনের ভবনটিকে মহকুমা দপ্তর স্থাপিত হয়েছিল।

সে সময় ২১৪ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে নীলফামারী সদর থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। কালের বিবর্তনে মহকুমা শহরে ১৯৬৮ সালে স্থাপিত করা হয়েছিল টাউন কমিটি। ১৯৮৩ সালে মহকুমা থেকে জেলায় রূপান্তরিত হয় নীলফামারী। ইতিহাস থেকে জানা যায়, দুই শতাধিক বছর পূর্বে এ অঞ্চলে নীল চাষের খামার স্থাপন করে ইংরেজ নীলকরেরা। এ অঞ্চলের উর্বর ভূমি নীলচাষের অনুকূল হওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় নীলফামারীতে বেশি সংখ্যায় নীলকুঠি ও নীল খামার গড়ে ওঠে। ছুটিতে বিনোদনপ্রেমী মানুষ ভিড় করে নীলকরদের নীলকুঠি দেখার জন্য।

কুন্দুপুকুর মাজার: শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে কুন্দুপকুর ইউনিয়নে অবস্থিত কুন্দুপকুর মাজার। এ এলাকায় ইসলাম প্রচার করতে আসা সুফি হযরত মীর মহিউদ্দিন চিশতি (র)-এর মাজার এটি। ত্রিশ একর জমি জুড়ে রয়েছে মাজার ও মাজার সংলগ্ন পুকুর।

সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ: ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের অপার সমন্বয় ঘটেছে সৈয়দপুরের গোলাহাটের চিনি মসজিদে। ৩টি বড় গম্বুজ ও ৩২টি মিনারের এ মসজিদটি উজ্জ্বল পাথরে আবৃত। চিনামাটির টুকরা দিয়ে আঁকা বিভিন্ন ফুল ও গাছের নকশা সকলের নজর কাড়ে। ১৮৬৮ সালে সৈয়দপুর উপজেলার গোলাহাট এলাকায় স্থাপিত হয় এ মসজিদটি। শুরুতেই এটি ছিল দুইতলা বিশিষ্ট টিনের ঘর। পরে ১৯২০ সালে হাজী হাফেজ আব্দুল করিম এটি পাকা করার উদ্যোগ নেন। ১৯৬৫ সালে এর দ্বিতীয় অংশ পাকা করা হয়। ভারত থেকে আনা ২৪৩ টি শঙ্কর ও মর্মর পাথর ব্যবহার করা হয়েছে এ মসজিদে।

পুরনো গির্জা: জেলার সৈয়দপুরে রয়েছে শত বছরের পুরাতন গির্জা। ধারণা করা হয় এটি উত্তরাঞ্চলের প্রথম এবং প্রাচীনতম গির্জা। আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ব্রিটিশদের নির্মিত নয়নাভিরাম লাল ইটের এই গির্জাটি।

এ ছাড়াও ভিমের মায়ের চুলা, পাল রাজার বাড়ি, হরিশচন্দ্র রাজার বাড়ি, তিস্তা ক্যানেল, দেশের সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ঘুরে দেখতে পারেন।

Comments

comments

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’