ডিমলায় গভীর রাতে বিধবার ঘরে ৪ সন্তানের জনক, অত:পর..

ডিমলা (নীলফামারী) থেকে- নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৮ নং ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বালাপাড়া গ্রামে ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালী লোকের নেতৃত্বে জোর করে আটক করেছে মোঃ মোজাম্মেল হক অরফে চলবলা (৪৮) নামের একজনকে। সে পেশায় একজন শুটকি মাছ ব্যবসায়ী। মোজাম্মেল হক চলবলা একই ইউনিয়নের দক্ষিন সোনাখুলি কুটিপাড়া গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের পুত্র।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে জানা যায়, রবিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মৃত নুরল হকের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী নিজ বাড়ীতে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসে গ্রামবাসীসহ ইউপি সদস্য তাকে আটক করে। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, নুরল হক দুই সন্তানের পিতা সে গত দু বছর পূর্বে মারা যায়, এর পর সুযোগ বুঝে মোজাম্মেল হক ওরফে চলবলা ওই গৃহবধুর নামে থাকা ২৫ শতাংশ ফসলি জমি, ৪ শতাংশ বাড়ী-ভিটা লিখে নেওয়ার চাপ দেয়। এমন কথাবার্তায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলার কাজে সাহায্য করে ইউপি সদস্যের ইঙ্গিতে শ্যালোক আইনুল হক ও ভাতিজা । বিষয়টি এলাকাবাসী আঁচ করতে পারলে তাদেরকে ধরার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। রবিবার রাত ১টায় গৃহবধুর বাড়ীতে মোজাম্মেল হককে জোর করে প্রবেশ করালে অসামাজিক কাজে লিপ্ত করার জন্য তাদের দুজনকে ইউপি সদস্য ও আইনুল হক সহ ভাতিজা মোছকেদ আলী। গৃহবধুর সাথে কথা হলে সে বলে, আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৬ মাসেরও বেশী দিন ধরে অসামাজিক কাজে ব্যবহারের কথা বলতে বাধ্য করে একই ভাবে গত রাতে আমার কাছে আসার কথা জানায় ইউপি সদস্য ও ভাই আইনুল হক। তাদের দাবী আমি তাকে বিয়ে করবো আর সেও আমাকে বিয়ে করবে। বিধবার বাড়ীতে সকাল থেকে সারাদিন শতশত লোকজন ভিড় জমায় এরই মাঝে উক্ত এলাকার যুবসমাজ ফুঁসে উঠে তারা বলেন, আমরা যদি এরকম ঘটনা দেখি বা শুনি তাহলে ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে কি শিখবো ? যুবকদের দাবী এ সমস্ত শয়তানদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, একই এলাকার, মোজাম্মেল হক চলবলার স্ত্রীর দুর সম্পর্কের ভাই মোঃ আইনুল হক (৪৫), ভাতিজা মোঃ মোছকেদ আলী (২৫), ছলেমান আলী (ইউপি সদস্য) ।

এ ঘটনায় বিষয়ে মোঃ মোজাম্মেল হক অরফে চলবলা এর প্রথম স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি ও তার পালিত মেয়ে মোছাঃ রুপালী বেগম বলেন, আমার বাবাকে আমার দুর সম্পর্কের ভাই, ভাতিজা ও ৪নং ইউপি সদস্য মোঃ ছলেমান আলী আমার স্বামীকে বিভিন্ন উসকানি দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আবারও তার প্রথম স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, আমি কোন বিবাহের অনুমতি দিব না বরং আমি তাকে ও ঐ মেয়েকে সহ আমার দুর সম্পর্কের ভাই আইনুল হক, ভাতিজা মোঃ মোছকেদ আলীকে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বো। মোঃ মোজাম্মেল হক অরফে চলবলা এর স্ত্রী ও মেয়ে জানায় তাদের সংসার যেন না ভাঙ্গে সে জন্য আমরা ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়েছি।

এ উক্ত ঘটনার বিষয়ে ঝুনাগাছ চাপানী ইউপি সদস্য মোঃ ছলেমান আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের সম্পর্কের ঘটনাটি আমি ৬ মাস আগ থেকে জানি। এখানে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তারা অবৈধ মেলামেশা করতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েছে। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকাবাসীর এ কাজকে সাধুবাদ দিয়েছি মাত্র।

Comments

comments

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’