আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল ‘ভালো ও মন্দ মেনে চলা’

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল- আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা; তারপর আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা; তারপর ভালো কাজের আদেশ দেয়া অসৎ কাজ হতে নিষেধ করা।’

মুমিন মুনাফেক এবং অবিশ্বাসীদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী হলো ভালো কাজের অংশগ্রহণ এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা। আর উল্লেখিত গুণ দুটি প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্যও বটে।

এ কারণেই মুমিন ব্যক্তির জন্য ভালো কাজ বাস্তবায়ন এবং মন্দ কাজ প্রতিহত করতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনটি স্তর নির্ধারণ করেছেন। হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো অন্যায় সংঘটিত হতে দেখে; তখন তাকে হাত দ্বারা প্রতি করা। যদি হাত দ্বারা প্রতিহত করা সম্ভব না হয় তবে মুখ দ্বারা অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করা। যদি তাতেও সামর্থ না হয় তবে অন্যায় কাজকে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করা। অর্থাৎ মন্দ কাজ প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে নিরবে নিরবে কাজ করে যাওয়া। আর এটা হলো ঈমানের দুর্বলতম অংশ।’

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘আমি যদি তাদেরকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করি তবে তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং জাকাত আদায় করে আর সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে। আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহর অধীন।’ (সুরা হজ : আয়াত ৪১)

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে ইসলামি হুকুমতের যে মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন; তন্মধ্যে সর্বোত্তম ৪টি কাজের মধ্যে দুটি হলো- ‘ভালো কাজের আদেশ দেয়া এবং মন্দ কাজ প্রতিহত করা।’

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হাদিসে পাকে এ আমলকে সর্বোত্তম আমলগুলোর মধ্যে গণ্য করেছেন। আল্লাহর কাছে প্রিয় আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে- আল্লাহর প্রতি ঈমান ও আত্মীয়তার সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অতঃপর সর্বোত্তম আমল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন- ‘ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ’কে।

মানুষের সবচেয়ে ভালো কাজ হলো- ‘আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস। তার কোনো শরিক নেই একথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা। শুধুমাত্র তার জন্যই একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করা। ইবাদত-বন্দেগিতে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। আর এ সবই মা’রূফ বা ভালো কাজ।

পক্ষান্তরে মানুষের মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার মানে হলো- যে সব কাজ থেকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল নিষেধ করেছেন; তা থেকে বিরত থাকা। আর তাই হলো ‘মুনকার বা মন্দ কাজ’।

সুতরাং সব ধরনের গোনাহ, চাই তা ছোট কিংবা বড় হোক; সবই মুনকার বা মন্দ কাজ। আর সবচেয়ে বড় মুনকার কাজ হলো- ‘আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা।’

বিশেষ করে
আল্লাহ তাআলার কাছে প্রিয় আমলগুলোর মধ্যে ভালো ও মন্দ মেনা চলা একটি। আর ভালো কাজের আদেশকারী ও মন্দ কাজের নিষেধকারী ব্যক্তিকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গুণের অধিকারী হতে হবে-

>> ইলম বা জ্ঞান অর্জন করতে হবে
যে ভালো কাজটি নিজে করবে এবং অন্যকে করতে বলবে; সে কাজটি সম্পর্কে ইলম বা জ্ঞান থাকা আবশ্যক। আবার যে খারাপ কাজটি নিজে করবে না এবং অন্যকে করতে নিষেধ করবে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ইলম বা জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

>> কোমলতা প্রদর্শন করতে হবে
যে ভালো বিষয়গুলোতে নিজে সম্পৃক্ত হবে এবং অন্যকে বিষয়গুলোতে সম্পৃক্ত করবে আবার যে মন্দ বিষয়গুলোতে থেকে নিজে বিরত থাকার পাশাপাশি অন্যকেও বিরত রাখতে নিজেকে কোমল হতে হবে। অন্যের প্রতি কোমলতা প্রকাশ করতে হবে।

>> ধৈর্য ধারণ করতে হবে
জুলুম নির্যাতন তথা সুখে দুঃখে সর্বাবস্থায় ধৈর্যশীল হতে হবে। যেভাবে হাকিম লোকমান তার ছেলেকে অসিয়ত করেছেন; যা কুরআনে আল্লাহ তাআলা তুলে ধরে বলেন, ‘হে আমার প্রিয় বৎস! নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে; ভালো কাজের আদেশ দিবে; অসৎ কাজ থেকে করবে এবং তোমার ওপর বিপদ আসলে ধৈর্য ধারণ করবে। নিশ্চয় এগুলো অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ।’ (সুরা লোকমান : আয়াত ১৭)

পরিশেষে…
আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা। এ আমল বাস্তবায়নে হাদিসে ঘোষিত পদ্ধতি অবলম্বন করা আবশ্যক।

আবার এ প্রিয় আমলটি গ্রহণযোগ্য করে তুলতেও হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী নিজেদের তৈরি করা আবশ্যক। সে জন্য ইলম বা জ্ঞান অর্জন; সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের সময় নিজেকে যেমন কোমল হতে হবে তেমনি অন্যের প্রতিও কোমলতা প্রদর্শ করা জরুরি।

সর্বোপরি ভালো ও মন্দ উভয় কাজে নিজেকে আল্লাহর প্রিয় হিসেবে গড়ে তুলতে ধৈর্যের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ভালো ও মন্দ কাজ নিজে করার এবং অন্যকে এ কাজ দুটি বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়ার মাধ্যমে তৈরি করার তাওফিক দান করুন। কুরআন এবং হাদিসের দিক-নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Comments

comments

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’