সৈয়দপুরে ত্রান লুট করে মামলা হবার পরও গ্রেপ্তার হয়নি এনামুল চেয়ারম্যান ও মেম্বার এছাউল !

রুদ্র রহমান- বন্যাদুর্গতের জন্য বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি নীলফামারী ইউনিটের ত্রাণ লুটের অভিযোগে সৈয়দপুরের কাশিরাম বেলপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কেউকেই আটক করতে পারেনি পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর নীলফামারী জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির বন্ধুত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইফতেখার আহমেদ উদাস নিজে বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামিরা হল, সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী, ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এছাউল হক এবং ইউপি সদস্যের দুই পুত্র মুন্না ও আউয়াল। এ ছাড়া, মামলায় অজ্ঞাত আরো ২২-২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী ইফতেখার আহমেদ উদাস জানান, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ১২ জন স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়ে গত ২ অক্টোবর কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের অচিনার ডাঙ্গা নামক স্থানে ওই ইউনিয়নের পূর্ব নির্ধারিত তিনশত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণ চলাকালে ইউপি সদস্য এছাউল হক জোরপূর্বক তালিকাবহির্ভূত পরিবারের জন্য ত্রাণ দাবি করেন। এতে স্বেচ্ছাসেবকরা অস্বীকৃতি জানালে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ সময় ওই ইউপি সদস্যের দুই পুত্র মুন্না ও আউয়ালের নেতৃত্বে ২২-২৩ জন মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে ৮৩টি পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ লুট করে। প্রতি পরিবারের জন্য ১২৫০ টাকা মূল্যের প্যাকেজ ত্রানের প্যাকেট ছিল। যার ৮৩টি প্যাকেটের মূল্য ১লক্ষ ৩ হাজার ৭৫০টাকা।

বাদী আরো জানান, আক্রমণকারীদের লাঠির আঘাতে স্বেচ্ছাসেবকের ৮ জন সদস্য গুরুতর আহত হন। আহতরা নীলফামারী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে মুঠোফোনে নীলফামারীনিউজকে বলেন, আমি ত্রান বিতরণের সময় ঘটনাস্থলে ছিলামই না।

এদিকে মামলা দায়েরের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে নীলফামারী যুব রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব প্রধান মাসুদ সরকার মাসুদ নীলফামারীনিউজকে বলেন, আমরা পুরো জেলাব্যাপী ৮ বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবী কাজকর্মের মাধ্যমে গরীব-দু:খীদের পাশে রয়েছি। কিন্তু কাশিরাম বেলপুকুর ইউপির মত পরিস্থিতির সম্মুখীন কখনও হইনি। ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার এছাউল ও তার দুই ছেলে যে ন্যাক্কড়জনক কাজ করেছে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হলে স্বেচ্ছাসেবকরা ভাল কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। স্বেচ্ছাসেবকদের ভাল কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের কোন বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আশা করছি পুলিশ খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে ভাল কিছু শোনাবে।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান পাশা মামলা পাবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। যার নং ৬, তাং ৮/১০/১৭। থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।

Comments

comments

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’