‘শুধু তাজমহল কেন, দাসত্বের প্রতীক রাষ্ট্রপতি ভবনও ধ্বংস করা উচিত!’

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- তাজমহল নিয়ে বিজেপি বিধায়ক সঙ্গীত সোম যে বিতর্ক শুরু করেছিলেন এবার তাতে ইন্ধন জোগালেন সমাজবাদী পার্টি (এসপি) নেতা আজম খান।

মঙ্গলবার আজম খান বলেছেন, দাসত্বের নির্দশন আছে এমন প্রতিটি জিনিসকেই মুছে ফেলা উচিত।

কেন শুধু তাজমহল? রাষ্ট্রপতি ও সংসদ ভবন, কুতুব মিনার, লাল কেল্লাও ধ্বংস করা উচিত। এগুলো প্রত্যেকটি দাসত্বের নিদর্শন। আরএসএস’এর লোকেরা বলছে এটা বিশ্বাসঘাতকরা তৈরি করেছে। এগুলো যদি বিশ্বাসঘাতকতার নির্দশনই হয়, তবে সবগুলোকেই ভেঙে ফেলা উচিত।

উল্লেখ্য, স্ত্রী মমতাজের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেই ১৭ শতকে মুঘল সম্রাট শাহজাহান ভারতের আগ্রায় তাজমহল তৈরি করেন। প্রায় চার শতাধিক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও ভারতের অন্যতম দর্শনীয় স্থান এটি। আর তার সৌন্দর্যেই প্রতি বছরই কয়েক লাখ পর্যটক ভারতে আসেন এটিকে প্রত্যক্ষ চাক্ষুস করতে।

অথচ সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকারের পর্যটন সম্পর্কিত একটি পুস্তিকাতে তাজমহলের স্থান হয়নি। এ নিয়ে সেসময় কম সমালোচনা হয়নি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে মুঘল আমলে তৈরি এই স্থাপত্যটির প্রতি ইচ্ছাপূর্বক অবহেলার অভিযোগ ওঠে।

এরপর রবিবার তাজমহলকে নিয়েই মীরাটের একটি জনসভা থেকে সঙ্গীত সোম বলেন, তাজমহল বিশ্বাসঘাতকরা তৈরি করেছে। যিনি এটি তৈরি করেছিলেন তিনি তো নিজের বাবাকেই বন্দি করেছিলেন। তাই এইসব ঐতিহ্য বা ইতিহাসের দরকার নেই। আমরা নতুন করেই ইতিহাস লিখব।

বিজেপি নেতার ওই মন্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই ইস্যুতে বলেন এটা বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচির একটি অংশ। সেই দিনও আর বেশি দূরে নেই যেদিন বিজেপি দেশের নামও পাল্টে দেবার চেষ্টা করবে।

এদিকে নিজের দলের একজন বিধয়াকের মন্তব্যকে ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে তা ধামাচাপা দিতে যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন এটা (তাজমহল) নিশ্চিতভাবেই ভারতের। মঙ্গলবার আদিত্যনাথ বলেন, তাজমহল কে এবং কি কারণে নির্মাণ করেছেন সেটা বড় বিষয় নয়। এটা ভারতীয় শ্রমিকদের রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে তৈরি হয়েছিল। এটা আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পর্যটনের ক্ষেত্রে পর্যটকদের যাবতীয় সুবিধা ও নিরাপত্তা দেওয়ার আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে পড়ে।

Comments

comments

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’