জানেন কি, ‘ডুব’ ছবির নায়ক ইরফান খানের নাম চরিত্র ‘জাভেদ’র বাড়ি সৈয়দপুর?

নীলফামারীনিউজ, এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট- মুক্তির আগেই বিতর্কে জড়ায় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ডুব’।  ছবিটি মুক্তির পর নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সোশাল মিডিয়ায় অ্যাটাক-কাউন্টার অ্যাটাকের মতো ঘটনাও ঘটতে থাকে। তবে ‘ডুব’ ছবিটির দুর্বল দিকগুলোর মধ্যে যে ক’টি বিষয় আলোচনায় আনার চেষ্টা করা হয় তার মধ্যে অন্যতম জাভেদ হাসানের চরিত্রটি।

ডুব ছবিতে নাম চরিত্র জাভেদ হাসান হিসেবে অভিনয় করেছেন বলিউডের নামি অভিনেতা ইরফান খান। সমালোচকরা বলছেন ছবিতে ইরফান খান ভাষাগত দিক দিয়ে বেমানান ছিলেন। কিংবা জাভেদ হাসানের চরিত্রে ইরফান খান পারফেক্ট ছিলেন না। এর অন্যতম কারণ হিসেবেও বলেছেন জাভেদ হাসান বাংলা ভালো বলতে পারেননি। ভাঙা বাংলায় জাভেদ হাসানের উচ্চারণ ছবিটির বড় দুর্বল দিক ও নির্মাতার ভুল হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

নির্মাতা ফারুকী চাইলে তো ইরফান খানের কণ্ঠ ব্যবহার না করেও ডাবিং করতে পারতেন- সোশাল মিডিয়ায় অনেকের প্রশ্ন ছিল এটা। কেন করালেন না ডাবিং? কেন এই ভুল করলেন? এই প্রশ্ন উঁকি দেয়।

প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে উত্তর যে পাওয়া যায়নি তা কিন্তু না। ছবিতে জাভেদ হাসান একজন ফিল্ম ডিরেক্টর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করা জাভেদ হাসানের বাড়ি কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তরেই রয়েছে, ইরফান ইজ দ্য পারফেক্ট পারসন ইন ডুব এবং ফারুকীও নির্মাণে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে ফাঁক রাখেননি।

ছবির গল্প যখন ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যায়, উঠে আসে জাভেদ হাসান-মায়ার সংসার জীবন শুরুর কথা। জাভেদ হাসান-মায়া পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। পুলিশ আসে জাভেদের শ্বশুরবাড়িতে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় জাভেদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে নাটক-শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করছেন। জাভেদের বাড়ি সৈয়দপুর।

ব্রিটিশ শাসনামলের শেষ দশকগুলোতে ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনে কাজ করার জন্য অনেক উর্দুভাষাভাষী তৎকালীন পূর্ব বাংলায় আসে। তাঁদের মধ্যে একটা অংশ ছিল বিহার থেকে আগত যারা প্রধানত রেল, পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা ও অন্যান্য বেসামরিক পদগুলোতে যোগ দিয়েছিল। ঢাকা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সৈয়দপুরে এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ রেলওয়ে কারখানা অবস্থিত। এ কারখানায় কাজ করার জন্য ব্রিটিশরা বিহার থেকে প্রায় ৭০০০ জনকে এখানে নিয়ে এসেছিল।

নীলফামারী জেলার এই সৈয়দপুর শহরটি ভারতের বিহারের নিকটবর্তী। সৈয়দপুরের পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর থেকে বিহারের কাটিহার থেকে সরাসরি রেল যোগাযোগ ছিল। সৈয়দপুর শহরটি উর্দুভাষাভাষী এলাকা হিসেবে অধ্যুষিত। এখানকার বিহারিরা বাংলা বলার চেষ্টা করলেও সে বাংলা ভাঙা শোনায়। যেটা ডুব ছবিতে ইরফান খানের ক্ষেত্রে হয়েছে।

ছবির গল্প বলছে জাভেদ হাসান বাংলাদেশের একজন ‘অবাঙালি’ ফিল্ম মেকার। ছবির গল্প এটাও বলছে বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয় সেই নির্মাতা। আর জনপ্রিয়তার নেপথ্যে তাঁর মেকিং। যদি তা-ই হয় তাহলে জাভেদ হাসান ‘ডুব’ এ পারফেক্ট। আবার উর্দুভাষাভাষীদের মধ্যে জাভেদ নামটিরও ব্যাপক প্রচলিত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ রকম অনেক অবাঙালি বাংলাদেশকে লালন করে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তুলছেন বা তুলেছেন। রাজনীতি, ক্রীড়া, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে এ রকম অজস্র উদাহরণ রয়েছে। ফুটবলে আমাদের সবচেয়ে গর্বের জাদুকর সামাদও ছিলেন উর্দুভাষী। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলেও রয়েছে এমন উদাহরণ।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’