কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ভিক্ষুকের বাড়ীতে দুর্বৃত্তের আগুন !

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি॥ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম বৈরাগী পাড়ার ভিক্ষুক সুরিন মহন্তের (৬৫) বাড়ীতে প্রতিপক্ষ আগুন দিয়েছে।

এলাকাবাসী ও সুরিন চন্দ্রের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকালে ওই ভিক্ষুকের ঘরের উপরে প্রতিবেশী জগদিশের বাঁশ পড়লে ভিক্ষুক বাঁশটি কেটে ফেলে। বাঁশটি কাটার এক পর্যায়ে জগদিশের ছেলে রতন (২৪), মহেশ চন্দ্রের ছেলে মনোরঞ্জন (৪৫), ও বিরেন চন্দ্রের ছেলে খোকন চন্দ্র (৩০) ভিক্ষুক সুরিন মহন্তকে মারধর করে এবং তার বাড়ীর বেড়া ভেঙ্গে দিয়ে তার ঘরে আগুন দিয়ে চলে যায়। এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে আগুন নিভিয়ে দিলে মহেশ চন্দ্রের ছেলে মনোরঞ্জন ও বিরেন চন্দ্রের ছেলে খোকন চন্দ্র তাদেরকে ভিটে ছাড়া করবে বলে হুমকি প্রদান করে। এ নিয়ে ভিক্ষুকের পরিবার আতঙ্কে বসবাস করে আসছে।

ভিক্ষুক সুরিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি আগে ভিক্ষা করে জীবন যাপন করতাম। ইউএনও সিদ্দিকুর রহমানের (বর্তমানে নড়াইল জেলার এডিসি) কারণে ভিক্ষা ছেড়ে দিয়ে কাজ কর্ম করে সুখে আছি। কিন্তু আমার সুখ দেখে আমার প্রতিবেশী চাচাত ভাই জগদিশ ও মহেশ চন্দ্র আমার জমি জাল দলিল করে দখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু আমি তাদের সাথে বিবাদ না করে নীলফামারী কোর্টে মামলা করে আসি। মামলার পর থেকে প্রতিপক্ষের পরিবার থেকে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদান করে আসছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য বলেন, ভিক্ষুকের পরিবারকে গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের স্বামী দুলু মিয়ার সাহসে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি আড়াল থেকে এসবের কলকাঠি নাড়ছেন। অথচ ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ঘটনার বিষয়ে ভাল কোন কিছু জানেন না।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মেহেদী হাসানের সাথে কথা হলে তিনি নীলফামারীনিউজকে বলেন, এ ব্যাপারে ভিক্ষুকের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’