ডোমারে সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী ধর্ষণের শিকার, হাসপাতালে ৫দিন !

নীলফামারীনিউজ, ডোমার অফিস- নীলফামারীর ডোমারে সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রী তার নিজ বাড়ীতে ধর্ষনের শিকার হয়েছে। ধর্ষনের পর আহত ছাত্রীটি জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে ৫ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর বর্তমানে কিছুটা সুস্থ্য হয়েছেন। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিচারের নামে গত ৯ দিন ধরে কালক্ষেপন করছেন বলে অভিযোগে পাওয়া গেছে।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে, জেলার ডোমার উপজেলার মটুকপুর মধ্যপাড়া গ্রামে। ধর্ষিতার পিতা দিনমজুর আব্দুল মজিদ ও মাতা রজ্ঞনা বেগম জানায়, লীমা আক্তার মনি স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। গত ২৪ নভেম্বর সকাল ১১ টার দিকে দিনমজুর আব্দুল মজিদের বাড়ীর সকল সদস্য কাজের জন্য বাইরে যায়। এ সময় তার মেয়ে মনি একাই বাড়ীতে ছিল। এ সুযোগে প্রতিবেশী মৃত মজনু শাহ এর বখাটে ছেলে রাশেদ বাড়ীতে প্রবেশ করে মনি’র হাত, পা ও মুখ তারই পড়নের ওড়না দিয়ে বেধে তাকে ধর্ষন করে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যগন বাড়ীতে ফিরে এলাকাবাসী সহ মনিকে মারাত্বক আহতাবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য মনিকে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে মনি ২৪ নভেম্বর হতে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা নেয়। অপরদিকে পাঙ্গা মটুকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সহ প্রভাবশালীরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা দেড় লাখ টাকায় বিষয়টি রফাদফা করে। পরবর্তীতে মেয়ে পক্ষকে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। ধর্ষিতার পরিবার এ টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধর্ষিতার পরিবারের উপর ছেড়ে দিয়ে সটকে পড়ে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ধর্ষিতার পরিবার। ধর্ষনের ৯ দিন অতিবাহিত হলেও মীমাংসার নামে কালক্ষেপন করায় ন্যায় বিচারের আশায় পরিবারটি সরকারের যথাযথ কতৃপক্ষের সহায়তা কামনা করছেন। এ ব্যাপারে পাঙ্গা মটুকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সাংবাদিকদের জানান, মেয়ে পক্ষ শালিস না মানায় ছেলে পক্ষকে জরিমানার টাকা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ডোমার থানার ওসি মোকছেদ আলী জানান,ধর্ষনের ব্যাপারে ধর্ষিতার পরিবারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনী।

Comments

comments

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’