নীলফামারী সদর শীর্ষ নিউজ

নীলফামারীতে আইনজীবীদের আদালত বর্জন

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট: নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুবুল আলমের সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ওই আদালত বর্জন করেছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এ ঘটনা ঘটে। সেই সঙ্গে আইজীবীরা ওই বিচারককে অপসারণের দাবি তুলে  অনির্দিষ্টকালের জন্য ওই আদালত বর্জনের ডাক দেয়।
বাংলা ট্রিবিউনের সৌজন্যে জানা যায়, নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর প্রায় অর্ধশতাধিক আইনজীবী স্বাক্ষরিত এক অভিযোগে বলা হয়, নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুবুল আলম বেশ কয়েক মাস হতে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মামলার রায় বেআইনি ভাবে প্রদান করছেন। তিনি প্রায় শতাধিক মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির পরও রায় প্রকাশ না করে শুধুমাত্র পেন্ডিং (ঝুলন্ত) অবস্থায় রেখেছেন।

এছাড়া কতগুলো সিভিল আপিল মামলার উভয়পক্ষের শুনানি না করে রায় প্রদান করেছেন এবং কতগুলো এস.সি মামলায় সাক্ষীর সাক্ষ্য দ্রুত শেষ করে রায় প্রদান করছেন।

ওই বিচারক উপরোক্ত বিচারপ্রার্থী জনসাধারণের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করে প্রতিদিন নতুন নতুন মোকদ্দমা শুনানি অব্যাহত রেখেছেন। যে পক্ষ ওই বিচারকের চাহিদা মতো ঘুষ দিচ্ছে তিনি তাদের পক্ষে রায় ঘোষণা করছেন। এতে এলাকার বিচারপ্রার্থী  জনসাধারণ সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

নীলফামারী জেলার বিচারপ্রার্থী জনসাধারনের অপূরণীয় ক্ষতি  এবং সকল আইনজীবীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগকারী আইনজীবীদের মধ্যে অ্যাড. কামরুজ্জামান শাসন বলেন, ওই বিচারক লাগামহীনভাবে ঘুষ খাচ্ছেন। তাই বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উক্ত আদালতে গিয়ে আমরা সকল আইনজীবী বিচারককে তার অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধের দাবি তুলি।  এ অবস্থায় বিচারক এজলাস ছেড়ে তার খাস কামড়ায় চলে যেতে বাধ্য হন।

তিনি আরও বলেন,আমরা সকল আইনজীবীরা ওই বিচারককে যতদিন অপসারণ করা না হবে ততদিন ওই আদালত বর্জনের ডাক দিয়েছি।

তবে এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সোয়েম বলেন, আইনজীবী সমিতির পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুবুল আলমের আদালত বর্জনের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, যেসব আইনজীবী সদস্য লিখিত অভিযোগ করেছে তাদের সুনির্দিষ্ট মামলা নম্বরসহ মামলার বিষয়ে অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ দাখিল করতে বলা হয়। তারা সেসব দাখিল করলে আইনজীবী সমিতি জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তার আগে নয়।