বাছাই সংবাদ লীড নিউজ

সন্তানকে রোবট বানিয়ে ফেলছি আমরা: সংস্কৃতিমন্ত্রী

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্টঃ সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ‘আমরা এখন বাচ্চাদের শুধু পড়-পড় বলছি। ছেলেমেয়েদেরকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। এভাবে রোবটের মতো তৈরি করছি তাদের।’ মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি ভবন) মিলনায়তনে তিনি একথা বলেন। এখানে জঙ্গিবাদবিরোধী সর্বধর্মীয় বিশ্বজনীন প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘হলি আর্টিজানে মাত্র পাঁচটি ছেলে ঠান্ডা মাথায় ২০ জনকে হত্যা করেছে। সেখানে ১৭ জন বিদেশি ছিল। একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন। কাজটি ইসলামের দোহাই দিয়ে করেছে তারা। কিন্তু ইসলাম এসব করতে বলে না। ধর্ম নিয়ে কোন হানাহানি কেন করবো। কেন অন্যর মতকে শ্রদ্ধা করবো না। আমরা মানবিক বাংলাদেশ চাই। এখন ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। তাই সবাইকে প্রকৃত ধার্মিক হতে হবে।’
সন্তানরা কেন জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে তা ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। তার মন্তব্য— ‘যারা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে তারা কোনও না কোনও পরিবারের সন্তান। তাদের মধ্যে ভ্রান্ত চিন্তা ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়গুলো আমাদের ভাবতে হবে। মানবিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের অধঃপতন ঘটছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্মতত্ত্ব ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফাদার তপন ডি রোজারিও বলেন, ‘কিসে শান্তি মেলে তা বোঝাতে হবে মানুষকে। একইসঙ্গে শান্তির জন্য সম্প্রতি বজায় রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।’ তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী স্থিরাত্মানন্দ মহারাজে কথায়, ‘পরের কল্যাণ কামনাই ধর্ম। নিজের পাশাপাশি অন্যের কল্যাণ কামনা করতে হবে আমাদের।’

বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের ভিক্ষু কল্যাণ জ্যোতি থের বলেছেন— ‘সম্পদ নয়, পূণ্যের জন্য কাজ করতে হবে আমাদের। সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাখলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।’

আলোচনা সভা শেষে হাক্কানি আঞ্জুমানের উদ্যোগে আয়োজিত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবশ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ২৩তম প্রার্থনা সভা। এখানে সভাপতিত্ব করেন হাক্কানি আঞ্জুমানের সভাপতি ইকবাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন নৌপরিবহন সচিব আব্দুস সামাদ, পরমাণু বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. শমসের আলী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ হিন্দু সমাজ সংস্কৃতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ভাই আজদুইন্দর সিং প্রমুখ।