নীলফামারীতে ৪২ হাজার কম্বল বিতরণ,নতুন বরাদ্দ এসেছে আরো ৫ হাজার;শীতবস্ত্র না পাওয়ার অভিযোগ দুস্থদের

মো. মহিবুল্লাহ্ আকাশ- দেশের বিভিন্ন এলাকার মত নীলফামারীতেও তীব্র থেকে অতি তীব্র মাত্রায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে। শীতবস্ত্রের অভাবে বাড়ছে দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ। দিনমজুররা শীতের প্রকোপে জবুথবু হয়ে পড়ায় কর্মবিমুখ অবস্থায় ঘরমুখী হয়ে পড়েছেন। ফলে সে সব পরিবারে দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকালের দিকে কিংবা সন্ধ্যার পর ঘর থেকে তেমন বের হচ্ছেন না মানুষ। শীতের তীব্রতা বাড়লেও দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি আশাব্যঞ্জক হারে দেখা যাচ্ছে না। সরকারি উদ্যোগে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটা জ্বালিয়ে অনেকেই কোন রকমে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছেন।

অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়া ৩ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় নীলফামারী জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে শীতজনিত রোগে শিশুদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়াসহ গবাদি পশুসহ প্রাণীকূলেও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতাল, সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

দুস্থদের কেউ কেউ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। তবে গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী শীতার্তরা শীতবস্ত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

সৈয়দপুর উপজেলা ত্রাণ দফতর পাঁচ ইউনিয়নে মাত্র ৩ হাজার ১০০ কম্বল বিতরণ করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। আরও বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ দফতর বার্তা পাঠিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। বেসরকারি উদ্যোগও তেমন দেখা যাচ্ছে না। এতে করে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে সৈয়দপুরের অতি দরিদ্র মানুষ। একই অবস্থা জেলার জলঢাকা, ডোমার, ডিমলা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলাতেও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলফামারী জেলার নিম্ন আয়ের দুস্থ পরিবারের লাখো মানুষ প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে নিদারুণ দুর্ভোগে পড়েছে। অধিকাংশ হতদরিদ্র মানুষের শীতবস্ত্র কেনার কোন সামর্থ্য নেই। এদিকে শুধু সরকারিভাবে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে বেসরকারিভাবে বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের তেমন আশাব্যঞ্জক খবর পাওয়া যায়নি। দু’একটি সংগঠন শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে।

বয়স্ক একাধিক ব্যক্তি নীলফামারীনিউজকে জানান, নীলফামারী জেলায় গত ৫০ বছরেও এমন শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়নি। এছাড়া নিম্ন আয়ের হওয়াতে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র কেনার প্রস্তুতিও শীতার্তদের নাই। এতে সব কিছুতেই নেমে এসেছে স্থবিরতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৯৩৭ পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এসব কম্বল জেলার মোট ৬০টি ইউনিয়নের প্রতি ইউনিয়নের ভাগে জুটেছে মাত্র ৭০০ পিচ করে। আরো আছে ৪টি পৌরসভা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিতরণকৃত কম্বলের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

এতে শীতার্তরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে পাওয়া শীতবস্ত্রগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল, এতিমখানা ও রেলওয়ে স্টেশনে আশ্রিতদের মধ্যেও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও বিজিবির পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

 শীতার্তদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে নতুন করে আরও ২০ হাজার পিচ কম্বল, ২৫ হাজার পিচ সোয়েটার/জ্যাকেট (শিশুদের জন্য) এবং ২০ হাজার পিচ চাঁদর চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়।

কিন্তু চাহিদার এসব শীতবস্ত্রের মধ্যে মাত্র ৫হাজার পিচ কম্বল এসে পৌছেছে নীলফামারীতে; বাকীগুলোর একটিও এসে পৌঁছায়নি।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারী) বিকেলে জেলা প্রশাসনের কাছে ৫ হাজার পিচ কম্বল ও চার হাজার পিচ শুকনো খাবার এসে পৌছায়। এ খবর নীলফামারীনিউজকে নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান।

তিনি আরো জানান, সরকারিভাবে যেসব শীতবস্ত্র পাওয়া গেছে তা ইতোমধ্যে শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আরও যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে সেগুলোর মধ্যে প্রাপ্ত ৫ হাজার পিচ কম্বল ও শুকনো খাবার যতদ্রুত সম্ভব শীতার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এবং চাহিদায় থাকা অন্য শীতবস্ত্র পাওয়া গেলে সেগুলোও দ্রুত দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

Comments

comments

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’