জটিলতায় বেতন হচ্ছে না প্রাথমিকের শিক্ষকদের

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- পাঁচ বছরেও প্রাথমিক স্কুলের সরকারিকরণের কাজ সম্পন্ন হয়নি। একসঙ্গে সারাদেশে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেয় সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানে এক লাখ ৩ হাজার ৮৪৫ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রাথমিকের শিক্ষকরা তাদের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।

.
শিক্ষকরা জানান, বেতন ছাড়া মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বিষয়টি একাধিকবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। শিক্ষকরা বলছেন, পাঁচ বছর পার হলেও নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। জাতীয়করণ করা হলেও শিক্ষকরা না খেয়ে মরতে বসেছেন। আর্থিক অনটনে শিক্ষকরা ধার-দেনা করে চলছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী জুন মাসের আগে তৃতীয় ধাপের জাতীয়করণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। শেষ ধাপের কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে।

তিনি জানান, প্রথম ধাপে জাতীয়করণ করা শিক্ষকরা ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে বকেয়াসহ বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দ্বিতীয় ধাপের শিক্ষকরা ২০১৩ সালের জুলাই থেকে বকেয়াসহ বেতন-ভাতা পাবেন। আর তৃতীয় ধাপের শিক্ষকরা ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে সব সুযোগ সুবিধা প্রাপ্য হবেন বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, নিবন্ধিত, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত, কমিউনিটি এবং সরকারি অর্থায়নে বা এনজিও পরিচালিত স্কুলগুলোকে তিন ধাপে সরকারিকরণ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে এমপিওভুক্ত ২২ হাজার ৯৮১টি বেসরকরি প্রাথমিক স্কুলের জাতীয়করণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারি আদেশও জারি করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২ হাজার ২৫২টি স্কুলের জাতীয়করণ করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপের ৯৬০টি স্কুল জাতীয়করণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শেষ ধাপের মাঠ জরিপ কাজ ২০১৪ সালে শেষ হয়। তবে এ নিয়ে ধীরে চলো নীতিতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃতীয় ধাপের স্কুলের গেজেট প্রকাশ করা হলেও শিক্ষকদের গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। ৬ মাস আগে মন্ত্রণালয় থেকে মাঠ পর্যায়ে এক চিঠি দেয়া হয়। এতে থানা-জেলা এবং কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স স্কুল ও শিক্ষক যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন পুনরায় পাঠাতে বলেছে। এজন্য তৃতীয় ধাপের শিক্ষকদের জাতীয়করণ প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ শিক্ষকদের গেজেট প্রকাশ আটকে গেছে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পাঁচ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নানা জটিলতায় দীর্ঘ সময় পরে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় ধাপের স্কুলগুলোর গেজেট প্রকাশ করা হলেও শিক্ষকদের গেজেট প্রকাশ নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। শিক্ষকরা বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে সারাদেশের ২৬ হাজার নিবন্ধিত, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত, কমিউনিটি এবং সরকারি অর্থায়নে বা এনজিও পরিচালিত স্কুল জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’