ডোমারে কমিউনিটি ক্লিনিকে হেলথ্ প্রোভাইডার কে পান না রোগীরা

full_1823320315_1446615668

ডোমার: সাধারণ মানুষের দ্বারপ্রান্তে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে সরকার যখন অক্লান্ত পরিশ্রম এবং নানা প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে তখন এক হেলথ প্রোভাইডার স্বেচ্ছাচারিতায় যখন খুশি খুলছেন ও বন্ধ করছেন ক্লিনিকটি। এমন আশ্চর্যজনক ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মকুটপুর ইউনিয়নের মেলাপাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রবিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সেখানে তালা ঝুলছিল ক্লিনিকের মূল দরজায়। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি কেয়ার হেলথ প্রোভাইডার মোসলেমা আক্তার সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে এসে অফিসের তালা খুলেন। ১ ঘন্টা থেকে আবার বিভিন্ন অযুহাতে চলে যান। সকাল ৯টায় রোগী আকলিমা আক্তার (৩৫), মুক্তা বেগম (৩), নাসরিন আক্তার (২৫) চিকিৎসার জন্য এসে কেন্দ্র বন্ধ পেয়ে হতাশ হয়ে বাসায় চলে যায়।

এ বিষয়ে নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশিদ বলেন, নীলফামারীর ৬টি উপজেলার ১৭২টি কেন্দ্র সকাল ৯টা থেকে চালু রয়েছে।
মেলাপাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে প্রসঙ্গে বলেন, এমন তো হওয়ার কথা না। বিষয়টি আমি ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবহিত করছি। সে ছুটি নিয়েছে নাকি অন্য কোন অযুহাতে কেন্দ্রটি বন্ধ রেখেছে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিরম্ব কুমার রায় জানান, আমি ঢাকায় ট্রেনিংয়ে আছি। মেলাপাঙ্গা কমিউনিটি কেন্দ্রটি অনিয়মিত বন্ধের বিষয়টি খোঁজ নেয়া হবে।

খবর পেয়ে সকাল ১১ টায় মোটর সাইকেলে এসে হাজির মোসলেমা আক্তার। কেন আসতে দেরী হলো এমন প্রশ্নে মোসলেমা আক্তার বলেন, আমার সন্তান অসুস্থ থাকায় আসতে দেরি হয়েছে। সকাল ৯টায় খোলার কথা থাকলেও ক্লিনিক কয়টায় খোলেন এ প্রশ্নে উত্তরে বলেন, আমি মাঝে মাঝে আসতে না পারলে স্বাস্থ্য সহকারী বেলাল হোসেন সকালে এসে খোলেন। আজকে বেলাল হোসেন কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বলতে পারছিনা।

গত মাসে কতজন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে প্রশ্নের জবাবও তিনি দিতে পারেনি।
কমিউনিটি ক্লিনিকটির সভাপতি আরিফুজ্জামানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার মন্তব্যও নেয়া সম্ভব হয়নি।

সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশিদ আরো বলেন, সরকারিভাবে ১৭২টি কমিউনিটি ক্লিনিক সরকারি ওষুধ সরবরাহ রয়েছে এবং প্রতিমাসে ওষুধের চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করা হচ্ছে। তারপরেও যদি কেউ দায়িত্বে অবহেলা করে থাকেন তবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’