নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সালিশে ধর্ষণের শাস্তি হিসাবে এক লাখ টাকা জরিমানা!

নীলফামারীনিউজ, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) করেসপন্ডেন্ট- নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ চাঁদখানা সারোভাষা গ্রামে এক সালিশ বৈঠকে অনার্স প্রথম বর্ষের এক তরুণের ধর্ষণের শাস্তি হিসাবে ইজ্জতের মূল্য এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সোমবার (০৭ মে) সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সারোভাষা গ্রামের জহির উদ্দিনের মেয়ে (১৪) দশম শ্রেণীর ছাত্রীর সাথে ওই গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র শাকিল আহম্মেদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা পরস্পর দু’জনে চাচা ভাতিজি সম্পর্ক হওয়ায় এলাকাবাসী তাদের মেলামেশা কখনো সন্দেহের চোঁখে দেখেনি।

শাকিল আহম্মেদ এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রেমিকাকে বিয়ের মিথ্যে প্রলোভন দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে আসছিল। গত ১মে শবে বরাতের রাত ১২টা দিকে প্রতারক প্রেমিক শাকিল আহম্মেদ প্রেমিকার সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে এলাকাবাসী তাকে ধরে ফেলে বিয়ে করার চাপ দেয়। কিন্তু শাকিল বিয়ে করতে রাজি না হলে তারপরের দিন প্রেমিকা শাকিল আহম্মেদ’র বাড়িতে গিয়ে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন শুরু করে।

এ ঘটনায় রোববার (০৬ মে) ছেলের বাড়ীর উঠানে একটি সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে চাঁদখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সিরাজুল ইসলামসহ এলাকার আরো ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিল। মেয়ের বাবা অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল হওয়ায় সালিশ বৈঠকের বিচারকরা মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য শাকিলের পিতা মনিরুজ্জামান মন্টুর কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধর্ষণের শাস্তি হিসাবে জরিমানা করে।

ধর্ষিতার পিতা জহির উদ্দিন নীলফামারীনিউজকে বলেন, টাকা দিয়ে কি করব। এই মেয়েটিকে আমি কোথায় বিয়ে দিব। সালিশের বিচারকদের কাছে আমার দাবি ছিল যে ছেলে আমার মেয়ের ইজ্জত কেড়ে নিয়েছে তার সাথেই বিয়ে দেয়ার। কিন্ত তারা আমাকে চাপ দিয়ে আমার মিমাংসা করেছে।

৬ নং ওয়ার্ড সদস্য সিরাজুল ইসলামের কাছে ঘটনার বিষয় নীলফামারীনিউজকে বলেন, ছেলের পরিবারের সাথে মেয়ের পরিবারের সামাজিক অবস্থার মিল না হওয়ায় টাকা আদায় করে নিয়ে মেয়ের বাবাকে দেয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রশীদ নীলফামারীনিউজকে বলেন, ঘটনাটি শুনেছি তবে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয়েছে কি না তা জানিনা।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’