ডোমার-ডিমলা উপজেলায় কালবৈশাখীতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো পথের ভিখারী

রুদ্র রহমান- বৃহস্পতিবার (১০ মে) রাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নীলফামারীর ডোমার আর ডিমলা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষনার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নীলফামারী-০১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দীন সরকার।

তিনি শনিবার (১২ মে) দুপুরে ডোমার উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক অবহিত করণ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানান।

সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ফাতিমা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া, সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দীন সরকার বলেন, সাম্প্রতিক স্মরনকালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ডোমারের নয়টি ও ডিমলার তিনটি ইউনিয়নে গাছ এবং ঘর চাপা পড়ে মারা গেছে ০৬জন নারী-শিশু ও পুরুষ।

সম্মেলনে ঝড় ও শিলার আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির বর্ননা এবং গাছ-ঘর চাপা পড়ে অকাল মৃত্যুর ঘটনা জানাতে গিয়ে আফতাব উদ্দীন সরকার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় উপস্থিত সকলের চোখ ছলছল করে উঠে।

তিনি বলেন, কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ধান, ভুট্রা, মরিচ দুমরে মুচরে ঝড়ে গেছে। কোন গাছে নেই দানা। বাদাম ক্ষেত গেছে দুমরে মুচরে। আম ও লিচু বাগান ঠায় দাড়িয়ে আছে। কোন গাছে একটি ফলও নেই। ধান ক্ষেত দেখে হতাশ হয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে দু’জন কৃষক।

বিশেষ করে ধান ও ভুট্রা ফসল ঘরে তুলে আগামী দিনগুলো স্বচ্ছন্দে সংশার চালানোর রঙ্গীন স্বপ্ন ছিল কৃষকের চোখে-মুখে। কিন্তু মাত্র আধা ঘন্টার ঝড়ের তান্ডব ও শিলা আঘাত তাদের সেই স্বপ্নকে গুড়িয়ে দিয়েছে। আগামী দিনগুলো চলার কোন পথই খোলা নেই তাদের সামনে। অনেক প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক জমি বন্ধক নিয়ে আবাদ করেছিল ধান।

অনেকেই বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋন নিয়েও আবাদ করেছেন ধান, ভুট্রা ও মরিচ ক্ষেত। দুর্যোগের তান্ডবে তাদের ক্ষেত এখন বিরান ভূমি। সংশার চালানো, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ বহন, ঋন পরিশোধ করার দু:চিন্তা তাদের মাথায় বাজ পড়েছে। আসন্ন আমন আবাদ করার মতো এখন আর কোন আর্থিক সঙ্গতি নেই তাদের। দুর্যোগ তাদেরকে পথে বসিয়েছে। এসব পরিবার আজ পথের ভিখারী।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের ব্যাংক আর বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থার ঋন আদায় বন্ধ রাখার দাবী জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, হাজার হাজার একর জমির উঠতি ধান, ভুট্রা, মরিচ, বাদাম, আম, লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলে সংশার চালানোর পাশাপাশি পরিশোধ করে দিত এসব ঋন। কিন্তু এখন ঋন পরিশোধ করা তাদের কাছে শুধু অসাধ্যই নয়; এটি স্বপ্ন।

কাজেই পরবর্তী ফসল ঘরে না উঠা পর্যন্ত এসব ঋন আদায় বন্ধ রাখতে হবে। এ ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে সরকারের পাশাপাশি, বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা আর বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’