ডোমারে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের সাথে কপাল পুড়েছে ব্যবসায়ীদেরও !

নীলফামারীনিউজ, ডোমার অফিস- নীলফামারীর ডোমারে প্রলয়ংকারী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। কৃষকের সাথে কপাল পুড়েছে উপজেলার সার, বীজ ও কিটনাশক ব্যবসায়ীদের। উপজেলার আড়াই শতাধিক খুচরা ও পাইকারী সার, বীজ ও কিটনাশক বিক্রেতা অর্ধশত কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জানা গেছে, বৃস্পতিবার (১০মে) উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকারী ঝড় এবং শিলা বৃষ্টিতে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। সবচেয়ে বেশী ক্ষতির মূখে পড়ে বোরো চাষীরা। শিলার আঘাতে মাঠের পাঁকা ধান সম্পুর্ন ঝড়ে পড়ে। এমনকি ধানের গাছ গুলো পর্যন্ত মাটির সাথে মিশে যায়।

কৃষি অফিসের হিসেব মতে, এবারে উপজেলার ১২হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়। এর মধ্যে ৭হাজার ৯শত ৮৫ হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পুর্ন বিনষ্ট হয়। ডোমার উপজেলায় সরকারী সার ডিলার রয়েছে-১১জন, বিএডিসির-বীজ বিক্রেতা রয়েছে-১৫জন এবং খুচরা কিটনাশক ব্যবসায়ী রয়েছে ২শত ২০জন।

অধিকাংশ কৃষক এলাকার সার,বী জ ও কিটনাশক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাকীতে কিনে ধান চাষাবাদ করে থাকে। মৌসুম শেষে ধান ঘড়ে উঠার পর কৃষকরা তাদের বাকী টাকা পরিশোধ করেন। এভাবেই এলাকার ক্ষুদ্র ও পাইকারী সার, বীজ ও কিটনাশক বিক্রেতারা বছরের পর বছর ধরে কৃষকদের সাথে ব্যবসা করে আসছে।

এবারে প্রলয়ংকারী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কৃষকদের সকল স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে।এলাকার কৃষককুল এক মন ধানও ঘড়ে তুলতে পারেনি। কৃষকের সাথে কপাল পুড়েছে এলাকার ক্ষুদ্র ও পাইকারী সার,বীজ ও কিটনাশক বিক্রেতাদের। কৃষকদের কাছে দেয়া সার,বীজ ও কিটনাশকের বাকী টাকা আদায় বর্তমানে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আড়াই শতাধিক ব্যবসায়ীর।

বোড়াগাড়ী হাট এলাকার বিএম কলেজ রোডের ব্যবসায়ী মেসার্স কৃষি সীড ষ্টোরের মালিক আনোয়ার হোসেন নীলফামারীনিউজকে জানান, এলাকার ৫০জন খুচরা ব্যাবসায়ীসহ ৭শতাধিক কৃষকের কাছে আমার পাওনা রয়েছে ৮৮লাখ টাকা।

বোড়াগাড়ী বাজারের প্রিয়াংকা ট্রেডার্সের মালিক প্রদিপ কুমার আগরওয়ালা নীলফামারীনিউজকে জানান, কৃষকের কাছে আমার বকেয়া রয়েছে ৭০থেকে ৮০লাখ টাকা।ডোমার বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী এসকে ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল কাদের জানান, কৃষকের কাছে তার বাকী রয়েছে ৩০ থেকে ৩৫লাখ টাকা। এ টাকা গুলো আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কৃষকের কাছে টাকা চাওয়াতো দুরের কথা তাদের সাথে কথা বলাও যাচ্ছেনা।কথা বললেই তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। প্রকৃতির নির্মম পরিহাসে আজ আমরা সবাই নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের নুথুপাড়া গ্রামের কৃষক মনোরঞ্জন রায় নীলফামারীনিউজকে জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাকীতে সার,বীজ,ঔষধ নিয়ে ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করি। আমরা কৃষক মানুষ কৃষির উপর নির্ভর করে সংসার চলে। সেদিনের ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে সব ধান মাটিতে মিশে গেছে। এখন সংসার কিভাবে চলবে আর মানুষের পাওনা টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো এ চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।

জোড়াবাড়ী বাবুপাড়া গ্রামের কৃষক নগেন্দ্র নাথ রায় নীলফামারীনিউজকে জানান, আমি বাকীতে মালামাল নিয়ে ৭বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। সব মিলিয়ে এক মন ধান পাওয়া যাবে না।

গত ১২ মে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে নীলফামারী-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রেস কনফারেন্স করেন। এতে তিনি দেড় শত কোটি টাকা ক্ষতির আশংকা করেন। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাকে তিনি দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষনার দাবী জানান।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’