আওয়ামী লীগ নেত্রীর অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে সাংবাদিকসহ শতাধিক হাসপাতালে!

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য পারভিন তালুকদার মায়ার কর্মীসভায় দেয়া নিম্নমানের খাবার খেয়ে পুলিশ, সাংবাদিক ও সরকারী কর্মকর্তাসহ শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার (১৫ মে) মধ্যরাত থেকে বুধবার (১৬ মে) দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন।

এ পর্যন্ত মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪৯ জন, কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৫ জন, জীবননগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৩ জন ও চৌগাছা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪ জনের ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ২০ জন পুলিশ ও ৫ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আফসার আলী জানান, এ পর্যন্ত ফুড পয়জনিংয়ে মহেশপুরে ৪৯ জন ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ মে) মহেশপুর হাইস্কুল মাঠে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে তাদের এই অবস্থা বলে ভর্তিকৃত রোগীরা চিকিৎসকের কাছে জানান। তবে আক্রান্তদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ডা. আফসার জানান।

এদিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. আনিছুর রহমান জানান, তাদের হাসপাতালে মহেশপুরের পীরগাছা, পিপলবাড়িয়া ও গোকুলনগর এলাকার ১৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। তারা সবাই আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থক। দলীয় অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে তাদের এই অবস্থা বলে রোগীরা জানিয়েছেন।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, মহেশপুরে ফুড পয়জনিংয়ে এসব মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। তবে পরিস্থিতি ঝিনাইদহ স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মহেশপুর-কোটচাঁদপুর এলাকার সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, মঙ্গলবার (১৫ মে) বিকেলে মহেশপুর হাইস্কুল মাঠে সাবেক সংসদ সদস্য পারভিন তালুকদার মায়ার কর্মীসভা ছিল। সেখানে প্রায় ২/৩ হাজার খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। নিম্নমানের এসব খাবার খেয়ে দলীয় নেতাকর্মী, পুলিশ, সংবাদকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা ডারিয়ায় আক্রান্ত হন। আক্রান্তদের সংখ্যা দুই’শ ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন পারভিন তালুকদার মায়া বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে এখানে এসে পরিবশে নষ্ট করছে। আগে তিনি রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করেছেন, আর এখন নিম্নমানের খাবার দিয়ে নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টি করছেন। এমপি নবী নেওয়াজের অভিযোগ মায়া তালুকদার আওয়ামী লীগ থেকে বিতাড়িত টাউট, বাটপাড়, কালোবাজারীদের দলে ভিড়িয়ে মহেশপুরকে অশান্ত করছে।

বিষয়টি নিয়ে মহেশপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য পারভিন তালুকদার মায়া সাংবাদিকদের কাছে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। বক্তব্য জানতে তার কাছে একাধিকবার ফোন করা হলে শেষ পর্যন্ত তিনি মুঠোফোনটি বন্ধ করে রাখেন।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’