রংপুরের ক্লিনিকগুলোতে সর্বস্ব ফিরে পাবার বদলে সব হারিয়ে নি:স্ব হন রোগীরা

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- রংপুরে ক্লিনিক-হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় নিয়ম-নীতির বালাই নেই। সেবার আড়ালে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ‘কসাইখানায়’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিরোধে অসহায়ত্ব-অক্ষমতা প্রকাশ করছে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন।

দালালের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে শিশু মেধার হার্ণিয়া অপারেশন হয় এই ভিআইপি হাসপাতালে। মাত্র সাতশ’ টাকায় হিরম্ব কুমার নামে এক হাতুড়ে করেন অস্ত্রোপচার। সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হলে তার মরদেহ সরকারি মেডিকেলে ফেলে পালানোর সময় ধরা পড়ে ভিআইপির নৈশপ্রহরী। দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে এটি বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

চিকিৎসাপাড়ায় নূরুল ইসলাম ’দালাল রানা’ নামে পরিচিত এই রোগী শিকারি এখন মা জেনারেল হাসপাতালের পার্টনার। রাতারাতি ভিআইপি হাসপাতালের সাইনবোর্ড বদলে মা জেনারেল হাসপাতাল নামে নতুন উদ্যমে নেমে পড়েছেন স্বাস্থ্য সেবার ব্রত নিয়ে।

নূরুল ইসলাম ওরফে ‘দালাল রানা’ বলেন, ‘পরিচয় হওয়ার পর থেকে মা জেনারেল হাসপাতালের ওনারা আমাকে বলে ওনাদের সঙ্গে পার্টনার হয়ে আজ করতে। লাইসেন্স হয়ে যাবে।’

জনসেবা নামে এই ক্লিনিকের মালিক ডাক্তার মোসাদ্দেক। একাই সার্জন, ডিউটি ডাক্তার, এনেস্থেসিস্ট আবার আয়া-ওয়ার্ড বয়ও। অস্ত্রোপচারের ভুলে বাবু নামে আরেক শিশুর জীবন বিপন্ন হয়। চার দিন লুকিয়ে রেখে আরেকটি হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায় তার লোক। আটদিন যুদ্ধ করে পরাজিত হয় বাবু।

প্রাইম মেডিকেল ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক আক্কাস আলী সরকার বলেন, ‘আমরা ধারণা করতেছি, শ্বাস-প্রশ্বাস হয়তো স্লো ছিল। এছাড়া দু-এক মিনিট নাও থাকতে পারে। এতে অক্সিজেন সাপ্লাই ব্রেনে কমে যায়।’

বাবুর করুণ মৃত্যুর খবর সংগ্রহে যাওয়া গণমাধ্যমর্কমীদের হামলা করে মোসাদ্দেকের ভাড়াটেরা। মামলা হলেও দিব্বি চলছে জনসেবা। আর এর স্বাক্ষীগোপাল হয়ে আছে স্বাস্থ্য প্রশাসন।

সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে বলা হয়েছে। এখন আপনারা সোচ্চার হয়েছেন। এখন বন্ধ হয়ে যাবে।’

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ক্লিনিক বন্ধ করার সুপারিশ করতে পারি। সরকারকে আবেদন করতে পারি।’

একটি বেসরকারি সংস্থার গবেষণায় প্রকাশ, এখানে অনুমোদিত বেসকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ১০৩টি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। গত পাঁচ বছরে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসা অবহেলায় মারা গেছে ৪৮৩ জন। যার অর্ধেকই শিশু।- সময়

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ।’

‘সব ধরনের ঘটনা আমাদের জানাতে ০১৭১০৪৫৪৩০৬ নাম্বারে কল করুন।’