নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদ বাজার, জমজমাট বেচাকেনা

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) করেসপন্ডেন্ট- নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা শহরের সব কাপড়ের দোকান গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। কিশোরগঞ্জ উপজেলা শহরের সব কাপড়ের দোকান গুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়।

কেউ কাপড় বসে বসে দেখছে আর কেউ দাড়িয়ে থেকে নিজেই কাপড় হাতে নিয়ে খুলে পছন্দের রং দেখে কাপড় পছন্দ করছে। সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সব বয়সী মানুষ আসছে কাপড় কেনার জন্য। ফলে কাপড় ব্যবসায়ী মালিক ও কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তারপরও যে ভাবে রোজার শেষ সময়ে মুসলমানেরা ঈদকে সামনে রেখে যেভাবে কেনাকাটা শুরু করে এ বছর সে রকম বেচা কেনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর এর পিছনে বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে দিনের বেলায় রোদের প্রচন্ড তাপ, অত্যান্ত ভ্যাপসা গরম ও সাধারণ মানুষের পকেটে নেই টাকা। ফলে গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের লোকসান। আবাদী ফসলে মূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে ঈদকে পাড় করতে চাইছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। সরকারী চাকুরী জীবিদের হাতে টাকা পয়সা থাকলেও তারা ছুটছেন বিভাগীয় শহর রংপুরে। অথচ ঈদ উপলক্ষ্যে দেশী ও বিদেশী বাহারী পোশাকের বিশাল সমাহার রয়েছে উপজেলা শহরের বিপনী বিতানের দোকান গুলোতে।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে কিশোরগঞ্জ বাজারের শফি মিয়া মডার্ণ মার্কেটের রংপুর গার্মেন্টস ও হাই চয়েজ শো’রুমে গিয়ে দেখা গেছে, শিশুদের জন্য চায়না থেকে আমদানীকৃত গেঞ্জি, শার্ট, প্যান্ট ও শার্ট সেট, মহিলাদের জন্য নতুন কালেকশন হিসাবে ইন্ডিয়ান জামদানী শাড়ি, বালুচুড়ী শাড়ী, রেশমী শাড়ী ও মনকাড়া কাতান শাড়ী এবং মেয়েদের জন্য এবারের ঈদে উল্লেখযোগ্য পোশাক হিসাবে স্থান পেয়েছে গাউন জামা, ল্যাহেঙ্গা, বুটিকসে তৈরীকৃত অত্যাধুনিক ডিজাইনের থ্রি পিছ পুরুষদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন দেশী বিদেশী প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবী, ফতুয়া গেঞ্জিসহ বিভিন্ন ধরনের তৈরী পোশাক। তবে এ বছরে মেয়েদের ঈদের পোশাক হিসাবে স্থান করে নিয়েছে গাউন জামা ও ফ্লোর টাচ জামা। তবে কাপড়ের দোকান গুলোতে সারাদিন পুরুষ ক্রেতাদের চেয়ে চোঁখে পড়েছে ছোট বড় মেয়ে ও বিবাহিত মহিলা ক্রেতাদের।

কাপড় কিনতে আসা নিলুফা ইয়াসমিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতি বছরের তুলনায় এবারের ঈদে কাপড়ের দাম একটু বেশী। তবে কিশোরগঞ্জের রংপুর গার্মেন্টসে মান সম্মত শাড়ী ও হাই চয়েজে নতুন পোশাকের আকর্ষনীয় ও পছন্দ করার মত কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভাল কিছু কিনতে হলে দাম একটু বেশী লাগবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান আমি কিশোরগঞ্জের কয়েকটি দোকানে কাপড় কিনেছি। তবে তুলনা মূলক ভাবে রংপুর গার্মেন্টস, শুভেচ্ছা গার্মেন্টস, ইনসাফ ক্লোথ ষ্টোর ও হাই চয়েজ সহ অন্যান্য দোকান গুলোতে খুব মান সম্মত ও সুলভ মূল্যে পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। ঈদ উপলক্ষ্যে কাপড়ের দাম একটু বেশী থাকলেও এবারের দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে।

এখন আমার ছেলে ও মেয়ের জন্য কেনাকাটা করেছি, মেয়েদের কেনাকাটার পর আমার কেনাকাটা করবো। শুভেচ্ছা গার্মেন্টস ও সু-ষ্টোরের মালিক গোলাম রব্বানীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বর্তমানে ঈদের বেচা কেনা খুব ভাল হচ্ছে ক্রেতাদের মন মত পোশাক আমার দোকানে আছে। ক্রেতাদের খুব ভীড় আছে আগামী ২৫ রমজানের পর আরও বেশী ক্রেতাদের ভীড় বাড়বে সেই সাথে বিক্রি বাড়বে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে তিনি কাপড়ের চড়া দাম অস্বীকার করে বলেন, কাপড়ের কোন দাম বৃদ্ধি হয়নি বরং কিছুটা কমেছে। তবে ভাল কাপড়ের একটু দাম থাকবে।

ইনসাফ ক্লথ ষ্টোর ও গার্মেন্টসের স্বত্তাধিকারী রেদোয়ান হক বলেন, ঈদের বাজার এখনও শুরু হয়নি বলে মনে হচ্ছে। তবে দিনে দিনে বেচা কেনা বাড়ছে। তবে মালামালের দাম গত বছরের মতই আছে। রংপুর গার্মেন্টসের কর্মচারী আব্দুল আজিজ ও আবেদীন ইসলাম বলেন, বর্তমানে শিশুদের ও মেয়েদের গাউন কাপড়ের যথেষ্ট চাহিদা আছে। সারাদিন উল্লেখ যোগ্য হারে শিশুদের ও মেয়েদের কাপড় বেশী বিক্রি হচ্ছে। এবারে মেয়েদের গাউন জামার চাহিদা গত বছরের মার্কেটে আসা পাখি জামাকেও হার মানিয়েছে। চাঁদখানা থেকে কাপড় কিনতে আসা স্কুল পড়–য়া ছাত্রী জান্নাতি আক্তার বলেন, কয়েকটি দোকানে ঘুরে এসে গাউন জামা রংপুর গার্মেন্টসে পছন্দ করে নিয়েছি। দাম আমার কাছে বেশী মনে হয়নি।

রংপুর গার্মেন্টসের স্বত্তাধিকারী মজিদুল ইসলাম দাম বেশীর কথা স্বীকার করে বলেন, ঢাকা থেকে মালামাল আসার কারণে পরিবহণ ব্যয় একটু বেশী পড়ে। ফলে প্রতিটি কাপড়ের উপর ৫০-১০০টাকা বেশী পড়ে। তবে তারপরও ক্রেতারা কাপড় পছন্দমত আমার দোকানে কিনছে। আমার দোকানে কোন রংপুর-সৈয়দপুরের মাল নেই। কিশোরগঞ্জে সকল দোকানের থেকে আমার দোকানে সুলভ মূল্যে সব ধরণের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। আমি এ বছরে সরাসরি ঢাকা থেকে পর্যাপ্ত পরিমানে সব বয়সী মানুষের পছন্দ হওয়ার মত কাপড় নিয়ে এসেছি, যাহা গ্রাহকের পছন্দ হওয়ার মত। তবে বিক্রি তুলনা মূলক কম হওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে। মানুষের হাতে ভরা মওসুমেও নেই টাকা। কৃষক এ বছরে ধান, ভুট্রা চাষাবাদ করে বাজারে মূল্য পাচ্ছে না। তবে ২৫ রমজানের মধ্যে বিক্রি বাড়বে বলে তিনিও আশা প্রকাশ করছেন।

কাপড়ের দোকান গুলোর পাশাপাশি সু-ষ্টোর ও কসমেটিক দোকান গুলোতে ভীড় ছিল চোঁখে পড়ার মত। কাপড় কেনার পর নয়ন কসমেটিকের দোকানে কসমেটিক সামগ্রী কিনতে আসা মহসেনা তাবাস্সুমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,পরিবারের সকল সদস্যের কেনাকাটা করেছি। এখন কসমেটিক কেনাকাটা করতে হবে। কসমেটিক কেনাকাটা ছাড়া ঈদের আনন্দ নেই। এবারের ঈদে কি কি কিনলেন? উত্তরে বলেন, গাউন জামা কিনেছি,থ্রি-পিছ কিনেছি, পরিবারের সকলের জন্য কেনা কাটা করেছি। এখন ছেলে ও ভাগনির জন্য মেহেদী ও অন্যান্য কসমেটিক কিনবো।

কিশোরগঞ্জ দোকান মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেড বাবু বলেন, এক সপ্তাহ ধরে যে ভ্যাপসা গরম ও বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ থাকার কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। আবার কৃষক আবাদী শস্যের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় তারাও দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

ফলে ব্যবসায়ীদের কিছুটা মন্দা ভাব চলছে। তিনি আশা করেন মুসলমান মানুষ সিয়াম সাধনা পালন করছেন-ঈদের কেনা কাটাও করবেন। এতে কেউ কোন ভাবেই পিছিয়ে থাকবে না। সবাই ভাল ভাবে ঈদ করুক এটাই প্রত্যাশা করি।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশীদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রশাসনিক ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে। রাতের মধ্যে সব এলাকায় প্রশাসনের নজরদারী বৃদ্ধি করা হবে। যাতে ঈদে কোন মানুষের যাতায়াতে কোন সমস্যা না হয় সে দিকে নজর দেয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় গ্রাম পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ সচেতনতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে এবং আমি নিজেও সারারাত গাড়ি নিয়ে তদারকি করছি।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’