লালমনিরহাটে জমি নিয়ে বিরোধ, বাড়িতে অগ্নি সংযোগ আহত ১০

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- লালমনিরহাটে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি মাষ্টার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, মোজাফ্ফর আলী (৬০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৪৮), ছেলে ভোলা মিয়া ও ছেলের বউ শিরিনা আক্তারসহ হামলাকারী পক্ষের ৪জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কালমাটি মাষ্টারপাড়া এলাকার মোজাফ্ফরের সাথে তারই ছোট ভাই শফিকুলের দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বুধবার বিকেলে শফিকুল ও মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন গং তার ৩০/৪০ ক্যাডার নিয়ে মোজাফ্ফরের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের ভয়ে মোজাফ্ফরসহ তার পরিবারের লোকজন ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে হামলাকারীরা ঘরের বেড়া ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে মোজাফ্ফরসহ তার পরিবারের সবাইকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারে। এক পর্যায়ে শফিকুল ও মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ সময় এলাকাবাসী তাদের এই অন্যায় অত্যাচার বন্ধ করতে বললে শফিকুল ও মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন স্থানীয় দুইজনের মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সময় স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের ৪জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

এরপরেও হামলাকারীরা আহত মোজাফ্ফর ও তার পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে নিতে বাধা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত মোজাফ্ফর জানান, তার ছোট ভাই শফিকুলের হুকুমে মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন গং তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার পরিবারের সবাইকে বেধড়ক পিটায়। তাদের ভাইদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। কিন্তু তার ভাই এভাবে সন্ত্রাসী ভাড়া করে বাড়িতে হামলা চালাবে তা ধারনা ছিল না। এ সময় হামলাকারীরা তার ঘরে ভুট্টা ও তামাক বিক্রির রক্ষিত ৮০ হাজার টাকা লুটে নেয়। তিনি তার ভাই শফিকুল ও মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনসহ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে আলাউদ্দিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার দলের ৪জনকে তারা পিটে পুলিশে দিয়েছে। আমি এর বদলা নিবই।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি বলেন, ইতোমধ্যে থানা পুলিশ হামলাকারীদের ৪জনকে আটক করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’