নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) করেসপন্ডেন্ট- নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর বাহাগিলী ডাঙ্গাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আনজুমান বেগমের বিরুদ্ধে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বন্যায় কবলিত হওয়া ওই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের জন্য ২লক্ষ ৯৯হাজার টাকার বরাদ্দ আসে। প্রধান শিক্ষক আনজুমান বেগম বন্যায় কবলিত হওয়া ক্ষতিগ্রস্থ্য কাজের সংস্কার বাবদ ২লক্ষ টাকার বরাদ্দের কথা স্কুলের কমিটিকে শোনান। পরে স্কুলের সভাপতির কাছ থেকে কৌশলে স্বাক্ষর নিয়ে প্রধান শিক্ষক আনজুমান বেগম ২লক্ষ ৯৯হাজার টাকা উত্তোলন করে ৯৯হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এবং নিজের খেয়াল খুশি অনুযায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের না জানিয়ে স্কুলের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু করলে কমিটির সদস্যরা কাজের বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু প্রধান শিক্ষক কোন কাজের বিষয়ে অন্যান্য সদস্যদের কিছু জানাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

স্কুলের অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালে কয়েক দফা শিক্ষা অফিস থেকে তদন্ত করে তার অনিয়মের সত্যতা খুঁজে পায়। তার অনিয়মের বিষয় সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ অন্যান্য সদস্যরা জানতে চাইলে তিনি সহকারী শিক্ষা অফিসারসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ করেন এবং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন মামলা দেয়ারও হুমকি দেন।

অপরদিকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের স্কুল লেভেল ইনপ্রুমেন্ট প্রজেক্টের (স্লিপ) ৪০হাজার টাকা উত্তোলন করে কোন কাজ না করে সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সাথে কমিটির সদস্যরা কয়েকদফা সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েও কমিটির সদস্যরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার,উপজেলা নির্বাহী অফিসার,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,জেলা শিক্ষা অফিসারসহ অন্যান্য বিভিন্ন দপ্তরে প্রধান শিক্ষকের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুরুজ্জামান লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করে তাকে শোকজ করলে তিনি তার সময়মত জবাব দেননি। অথচ উল্টো সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে কর্কট ভাষা প্রয়োগ করে গালিগালাজ করেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার ওই স্কুলে কয়েকজন সংবাদ কর্মী অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক আনজুমান বেগমের সাথে কথা বললে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন এবং ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের স্লিপের চাহিদা দেখতে চাইলে তিনি বলেন- কোথায় চাহিদা ফাইল আছে জানিনা। খুঁজে দেখতে হবে।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দৌলত খাঁন বলেন, আমাকে বোকা বানিয়ে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) টাকা উত্তোলন করেছেন। এখন আমি তার কাছে এসব বিষয় জানতে চাইলে তিনি আমাকে নারী শিশু নির্যাতন মামলার হুমকি দেন এবং একজন সহকারী হিন্দু শিক্ষককে “হিন্দৃু চুপ করে বলে গালিগালাজ করেন।

সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুরুজ্জামান বলেন,বন্যা কবলিত কাজের ২লক্ষ ৯৯হাজার টাকার মধ্যে তিনি কমিটির সদস্যদের মাঝে ৯৯হাজার টাকা গোপন রেখেছেন এবং ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের স্লিপের টাকার মধ্যে ৩০ভাগ মালামাল ক্রয় করেছেন। তাকে এ বিষয়ে শোকজ করা হলেও তিনি তার জবাব দেননি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শরিফা আখতারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তদন্ত করে শোকজ করেছিলেন। তার শোকজের জবাব সময়মত না দেয়ায় আমি জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট ফরওয়ার্ডিং পাঠিয়েছি।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’