নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বেকার মহিলাদের উন্নয়নের চাবী শাম্মী আক্তারের হাতে!

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর,কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি- নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজেডুমুরিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন মাহমুদা আক্তার শাম্মী। ছোট বেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি শুই ও শুতা নিয়ে তার শেলাই করার ইচ্ছা ছিল প্রবল। বাবা আবুল কাশেম ও মা শ্যামলী আক্তারের ৩ সন্তানের মধ্যে শাম্মী বড়। বাবা আবুল কাশেম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী পদে কর্মরত আছেন। শাম্মী আক্তারের মা একজন আদর্শ গৃহিনী।

শিক্ষা জীবন শুরু- বাবা চাকুরী করার সুবাদে শাম্মী স্কুল জীবন শুরু করেন নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বাবা ও মায়ের সাথে থেকে ডোমার উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ডিমলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন শাম্মী সেখান থেকে ২০০২সালে এস এস সি ও ২০০৪ সালে ডিমলা মহিলা কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। ২০০৯ সালে জেলার সৈয়দপুর উপজেলা মহিলা কলেজ থেকে ডিগ্রী পাশ করেন। প্রিভিয়েস ও মাষ্টার্স শেষ করেন ২০১৩ সালে। ২০১৭ সালে কুষ্টিয়া শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে বিপিএড (ক্রিড়া শিক্ষক) প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন।

বিবাহ জীবন- ২০০৬ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার আদমপুর গ্রামে জামাল উদ্দিনের সঙ্গে মাহমুদা আক্তার শাম্মীর বিয়ে হয়। শাম্মী আক্তারের স্বামী একজন ঔষধ কোম্পানির মার্কেটিংয়ে কর্মরত আছেন। সংসার জীবনে শাম্মী ও স্বামী জামাল উদ্দিনের ঘরে জন্ম নেয় একটি ছেলে শিশু সন্তান। শিশুটির নাম রাখা হয় সামিউজ্জামান সান। সংসার জীবন শুরু করার আগে থেকে শাম্মী নিজের পায়ে দাড়ানোর চেষ্টা করেন বিভিন্ন ভাবে। কয়েকবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা,খাদ্য ও অনেক দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ব্যর্থ হন। তবু ইচ্ছা কখনও পিছু ছাড়েনি তার। অনেক বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে কর্ম জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করলেও কোন আলোর পথ খুঁজে পায়নি সে।

প্রশিক্ষণ- ২০১৩ সালে বিয়ের পর হস্তশিল্পের কাজ শেখার জন্য শাহানা হ্যান্ডিক্রাফটে গিয়ে বাটিকের কাজ শেখেন শাম্মী । পরে ২০১৬ সালে পোশাক তৈরী,ব্লক বাটিক ও এম্ব্রোয়টারী বিষয়ে ৬মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের আকর্ষণীয় পোশাক তৈরী, ব্লক বাটিক কাজ করে বাজারজাত করণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুনাম অর্জন করেন।

আয়ের উৎস- ২০১৩ সালের প্রথম দিকে ২ হাজার ৫শত টাকা দিয়ে পুথি দিয়ে তৈরী করা মেয়েদের হাত ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ ও পুথি দিয়ে পার্টস তৈরী করে প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২০হাজার টাকা আয় করছেন। তার তৈরী করা পুথির ব্যাগ এখন রংপুর রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তার তৈরী করা বাটিকের কাপড় এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল চাহিদা আছে বলে জানান শাম্মী। শাম্মী পুথি দিয়ে বিভিন্ন রং-বেরংয়ের ব্যাগ,বাটিক থ্রি পিছ ও ব্লক বাটিক থ্রি পিছ বিক্রি করে প্রায় কয়েক লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন। বর্তমানে কিশোরগঞ্জ কলেজ রোড মুন্সিপাড়া ডাক্তার আব্দুস সাত্তার মার্কেটে ও আকবারিয়া মসজিদের বিপরীতে শাম্মী হ্যান্ডিক্রাফট’র নিজস্ব শোরুমে তার তৈরীকৃত পোশাক ও কসমেটিকস পন্য বিক্রি চলছে।

ইচ্ছা- শাম্মী বর্তমানে বেকার ও শিক্ষিত মহিলাদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য এবং বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ অব্যাহত রেখেছেন। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন কিশোরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ হস্তশিল্পের প্রতি ঝোঁক দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে শাম্মী হ্যান্ডিক্রাফটসের সত্তাধিকারী মাহমুদা আক্তার শাম্মীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মেয়েরা যেন কোন পুরুষের উপর ভর না করে নিজ পায়ে দাড়িয়ে স্বামীকে ও বাবা মাকে সহযোগীতা করতে পারে এবং প্রত্যেক মেয়ে যেন তার পরিবারের একজন সম্পদ হিসাবে সংসারে মর্যাদা পায় এটাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য। তবে সরকারী ভাবে আমি সহযোগীতা পেলে আগামীতে ব্যাপক হারে মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কিশোরগঞ্জে একটি বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন খুলতে চাই। যাহা দেশ ও বিদেশে বাজারজাত করে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে পারি।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলী আর রেজা বলেন,মাহমুদা আক্তার শাম্মীর মত যদি প্রত্যেক ঘরে ঘরে একটি করে মেয়ে থাকতো তাহলে দেশে কোন কর্মসংস্থানের অভাব হত না। তাকে দিয়ে বর্তমানে ১৫দিন ব্যাপী একটি মহিলাদের প্রশিক্ষণ কোর্স অব্যাহত আছে। ঈদকে সামনে রেখে তার তৈরী পোশাকের চাহিদা ব্যাপক ভাবে আছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন,আমরা এ রকম উন্নয়নমূখী মানুষ গুলোকে কাজে লাগাতে চাই। তার এ রকম একটি প্রতিষ্ঠান আছে আমি জানিনা। তবে সে আমার কাছে কোন সহযোগীতা চাইলে আমরা তাকে সহযোগীতা করবো।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’