নীলফামারীতে শত কোটি টাকা মূল্যের ত্রাণের ৪১৬ একর জমি অবৈধ দখলে!

মো. মহিবুল্লাহ্ আকাশ- নীলফামারীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের চারশ’১৬একর জমির হিসেব কাগজে-কলমে থাকলেও দখলে নেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ দফতরের। এর মধ্যে অনেক জমি বাংলাদেশ সার্ভে রেকর্ডে (বিএস রেকর্ড) অবৈধ দখলদারদের নামে পর্চা হয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) ও সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারনে অবৈধ দখলদারেরা রেকর্ড করানোর সুযোগ পেয়েছে। অবৈধ দখলদারেরা এই বিপুল পরিমান আবাদি জমিতে করছেন চাষাবাদ। ফলাচ্ছেন ফসল।

শুধু তাই নয়, সেই সাথে পতিত জমিতে ইচ্ছেমত গড়ে তুলেছেন টিনের বাড়ি, সেমিপাকা বাড়ি আর নানান ইমারত। এ ছাড়াও বানিজ্যিক এলাকায় অনেকেই পছন্দসই মার্কেট উঠিয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের নাগের ডগায় দোকান দিয়েছেন ভাড়া, করছেন ব্যবসা। আবার অনেকে দোকানের পজেসন বিকিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের অর্থ। অথচ চোখে দেখেও না দেখার ভান করছে সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষ। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতর গত দু’অর্থ বছরে ওইসব জমির খাজনা বাবদ খেসারত হিসেবে সরকারি কোষাগারে পরিশোধ করেছে ৮৭লাখ টাকা।

নীলফামারী জেলা ত্রাণ দফতরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী নীলফামারী জেলা সদরের আটটি মৌজায় পাচশ’ ৪৩দশমিক ১০ একর, জলঢাকায় একটি মৌজায় সাড়ে ২২একর, সৈয়দপুরে চারটি মৌজায় চার দশমিক ৪১একর এবং ডিমলায় তিন হাজার ৩১দশমিক ৮৩একর জমি রয়েছে। পুর্ব পাকিস্থান মোহাজের পুনর্বাসন বিভাগ ১৯৪৭সালে দেশ বিভাগের পরে ১৯৫২-৫৩ ও ৫৩-৫৪ অর্থ বছরে নীলফামারীর চার উপজেলায় তিন হাজার ছয়শ’ দুই একর জমি হুকুম দখল করে। পরে এসব জমিতে ভারত প্রত্যাগত মুসলমানদের করা হয় পুনর্বাসন।

এসব জমি দীর্ঘ সময় মোহাজেরেরা ভোগদখল করে। পর্যায়ক্রমে তাদের ওয়ারিশেরা বাপ-দাদার দখলে থাকা এসব জমি বিক্রি শুরু করলে তা দখলস্বত্ব চলে যায় এলাকার বিত্তবান হাতে। এভাবে চারশ’ ১৬একর জমি চলে যায় এলাকার বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের করায়ত্বে। যার বর্তমান বাজার মুল্য শত কোটি টাকার উপরে।

সিএস এবং এসএ রেকর্ড মুলত সরকারের নামে জারী হলেও বাংলাদেশ সার্ভে রেকর্ড (বিএস) হয়েছে অনেক অনিয়মের মধ্যে। কিছু সংখ্যক অসাদু সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা বিশেষ সুবিধা নিয়ে অবৈধ দখলদারদের নামে রেকর্ড করে দিয়েছে। এসব অবৈধ রেকর্ডধারীরা বিএস রেকর্ডের সুত্র ধরে দাবী করছে জমির মালিকানা। ইতোমধ্যে অনেকেই খসড়া রেকর্ড বলে অবাধে সরকারের জমি বেচাকেনা করে বনে গেছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান নীলফামারীনিউজকে জানান, ত্রান দফতরে রয়েছে জনবল সংকট। এ জনবল সংকটের কারনে এসব জমির দেখভাল করা সম্ভব হয়নি। ফলে দিনের পর দিন কিছু জমি চলে যায় অবৈধ দখলদারদের হাতে। তবে অধিদফতর এবং মন্ত্রণালয় বেদখলে যাওয়া এসব জমি উদ্ধারে তৎপর। খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

জনবল সংকটের কারনে ত্রাণ অধিদফতরের বিপুল পরিমান জমি অবৈধ দখলে যাওয়ার কথা স্বীকার করে নীলফামারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), মো: শাহীনুর আলম নীলফামারীনিউজকে বলেন, এসব জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে খাস খতিয়ানে নিয়ে এসে ভুমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’