ডোমারে ১০ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো!

জুলফিকার আলী ভূট্টো, সিনিয়র স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট- নীলফামারীর ডোমারে ১০গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাকোঁ।

ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চেকাডারা নদীর উপর বাবুর বান নামক স্থানে বাঁশের সাকোঁয় স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী ও গ্রাম বাসীদের ঝুকিঁ নিয়ে চলছে নিয়মিত পারাপার। নদীর উত্তরে ৫নং ওয়ার্ডের নয়ানী বাকডোকরা, বাবুপাড়া, ব্রম্মতল ও মাষ্টারপাড়া এবং দক্ষিনে ৮নং ওয়ার্ডের কোনাপাড়া, নন্দীটারী, গোয়ালপাড়া, ব্রাম্মনপাড়া, কদুপাড়া, মাষ্টারপাড়া, দীঘলটারী ও ভাটিয়াপাড়া।

১০ গ্রামসহ ওই বাঁশের সাকোঁ দিয়ে প্রতিদিন পার্শবর্তী বামুনিয়া ও গোমনাতী ইউনিয়নের আমবাড়ী হাট,আজিজার মিয়ার হাট, নিমোজখানার বাজারে যাতায়াত করে থাকে হাজার হাজার মানুষ। উত্তরের ওই গ্রাম ও হাট-বাজার এলাকার জনসাধারনের যুগের পর যুগ বাঁশের সাকোঁয় চলছে পারাপার। কোন কোন বছর পারাপারের একমাত্র সাকোঁটি বন্যার পানীতে ভেসে যায়। সাকোঁটি নদীর পানীতে ভেসে গেলে ,ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

নিমোজখানা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী মহাদেব, কাজল চন্দ্র, তুলসি রানী জানায়, বর্ষায় বাঁশের সাঁকোটি ভেঙ্গে গেলে প্রায় ৫কিলোমিটার ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।জীবনের ঝুকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করি।

সাকোঁটির দক্ষিন তীরে অবস্থিত শিবগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমি আকতার, মাধবী রানী,মোনা সরকার জানায়, আমরা স্কুল শুরু ও ছুটির সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পারাপারের সময় দুঃচিন্তায় থাকি ,কখন অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে যায়। ভাঙ্গাচুড়া বাঁশের সাকোঁটি নরবরে হওয়ায় নদীর ওপারের বেশীর ভাগ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

এলাকাবাসী, গোপাল চন্দ্র রায়, বিকাশ চন্দ্র রায়, হরিহর চন্দ্র রায়, পরিমল চন্দ্র রায়, বিষ্ণু চক্রবর্তী জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় আমরা গ্রামবাসী প্রতিবছর সাকোঁটি মেরামত করে থাকি। বর্ষা, গ্রীষ্মসহ সব ঋতুতেই নদী পারাপার হতে হয়, কখনো কখনো বাশেঁর সেতুটি ভেঙ্গেঁ যায় তখন নদীতে জলে ভিজে পারাপার হতে হয়। তাতেও দুঃখ নেই কিন্তু দুঃখ তখন হয় তখন যখন কোন মূমুর্ষ রোগীর জন্য এম্বুলেন্স বা গাড়ীর প্রয়োজন হয়। নদীতে ব্রীজ না থাকার কারনে গ্রামে এম্বুলেন্স বা মটরগাড়ী ঢুকতে পারে না। অনেকদিন ধরে আমরা এই নদীর উপর ব্রীজ নির্মানের দাবী জানালেও অদ্যাবধি ব্রীজ নির্মান হয়নি। ব্রীজ নির্মান বর্তমানে এ এলাকার প্রানের দাবীতে পরিনত হয়েছে।

এ ব্যাপারে বোড়াগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ জানান, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ডোমার-ডিমলার মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারের সাথে কথা হয়েছে। তিনি চেকাডারা নদীর উপড় দ্রুত ব্রিজ নির্মান করার ব্যবস্থা করবেন।

ডোমার এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলৗ আব্দুর রউফ জানান, আমরা চেকাডারা নদীর ঘাটে একটি প্রাথমিক জরিপ করে স্থানীয় এমপির সুপারিশসহ কাগজ পত্র উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’