নীলফামারী জেল সুপারের স্ত্রীর বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ!

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- রংপুরে চাঁদনী আক্তার জুঁই (১২) নামে এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর জেল সুপার নজরুল ইসলামের স্ত্রী কাকলীর বিরুদ্ধে।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে যাওয়া শিশুটিকে পুলিশ রোববার উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।

শিশুটির বরাত দিয়ে পুলিশ ও রংপুরের মানবাধিকার কর্মীরা জানান, জুঁই লালমনিরহাট জেলার খোচাবাড়ি মাস্টারপাড়া এলাকার কৃষক দুলালের সৎ মেয়ে। ছয় বছর বয়স থেকে সে নীলফামারীর জেল সুপার নজরুল ইসলামের রংপুর নগরীর পশ্চিম বাবুখাঁর বাসায় কাজ করত। কাজে ভুল হলেই নজরুল ইসলামের স্ত্রী কাকলী তাকে লাঠি, রান্নার চামচ দিয়ে মারধর করত। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন সইতে না পেরে শনিবার রাতে জুঁই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় এক ব্যক্তি ওইদিন রাতে রাস্তায় শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তার ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি খটখটিয়া পশ্চিমাপাড়ায় নিয়ে যান। আর এর মধ্যে গৃহপরিচারিকাকে না পেয়ে নজরুল ইসলাম মহানগর কোতোয়ালি থানায় জুঁই নিখোঁজ রয়েছে মর্মে সাধারণ ডায়েরি করেন।সেই সঙ্গে সন্ধানদাতাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করেন। পরে রোববার দুপুরে খবর পেয়ে মানবাধিকার সংস্থা আরডিআরএসের নারী অধিকার বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা সামসে আরা বিলকিস খটখটিয়ায় জুঁইকে দেখতে যান।

পরে নির্যাতনের বর্ণনা শুনে তিনি পুলিশে খবর দিলে তারা জুঁইকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে আসে। বিকেলে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের কাছে শিশুটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার জন্য আবেদন করা হয়। বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা শিশুটিকে শেখ রাসেল শিশু আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে জুঁই জানায়, কাজে ভুল হলেই প্রায় সময় কাকলী তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করত। ভাতের চামচ দিয়ে ছ্যাঁকা দিত। তাই সহ্য করতে না পেরে সে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। সে নিজের বাসায় যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি।

সে আরও জানায়, একবার লালমনিরহাটে সে নিজ বাসায় গিয়েছিল। কিন্তু তার সৎ বাবা আবার তাকে ওই বাসায় ফেরত পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়েও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাদের বাবুখাঁর বাসায় গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।

রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার এসআই মনোয়ার হোসেন জানান, উদ্ধার করা শিশুটির হাতে ছ্যাঁকার দাগ রয়েছে। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। সে পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে শিশুটি শেখ রাসেল আশ্রয়কেন্দ্রে থাকবে। এ ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি।

তথ্যসূত্র- সমকাল

‘এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোন সংবাদ বা তথ্য কপি/পেষ্ট করে প্রকাশ করা কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ।’